|

ডেভিড টাউনসেন্ড

২০ এপ্রিল, ১৯১২ তারিখে কো ডারহামের নর্টন-অন-টিজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান তিনি। দাদা ফ্রাঙ্ক, ভ্রাতা চার্লস, কাকা ফাঙ্ক ও মাইলস – প্রত্যেকেই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এমনকি, পিতা চার্লস ১৮৯৯ সালে কয়েকটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। উইনচেস্টার কলেজে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। ১৯৩৩ ও ১৯৩৪ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। অবশ্য, অসুস্থতার কারণে প্রথম বছর খেলতে পারেননি। ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। নর্টন ক্লাব ও ডারহামের পক্ষে খেলেছেন। এছাড়াও, ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ সময়কালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

অক্সফোর্ডে প্রথম মৌসুমে অসুস্থ ছিলেন। ১৯৩৩ সালে ৭৩৪ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, ফ্রি ফরেস্টার্সের বিপক্ষে ১৯৫ রান তুলেছিলেন। উইজডেনে তাঁর চমৎকার শারীরিক গঠনশৈলী, ধৈর্য্য, শক্তিমত্তা ও আকর্ষণীয় স্ট্রোকের ফুলঝুড়ির বিষয়ে উল্লেখ করা হয়। পরের বছর নিজের সেরা ছন্দে অবস্থান করেন। লর্ডসে ১৯৩ রানের ইনিংস খেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলায় ষষ্ঠ সর্বোচ্চ রান তুলেছিলেন। এফ. জি. এইচ. চকের শতকে তাঁর সাফল্য ম্লান হয়ে গেলেও এ শতকের কল্যাণে ইংরেজ দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজর কাড়েন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে দারুণ খেলার সুবাদে পরবর্তী শীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনার্থে দলে যুক্ত করা হয়।

১৯৩৫ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। সবগুলো টেস্টই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছিলেন। বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। প্রথম মৌসুমে তিনটি শতক হাঁকানোর কারণেই তাঁকে ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়েছিল। সর্বশেষ খেলোয়াড় হিসেবে কোন কাউন্টি দলের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে ইংল্যান্ড দলে খেলেছেন।

২৪ জানুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অধিনায়কের কাছ থেকে অভিষেক ইনিংসে প্রথমে বল মোকাবেলার করারও প্রস্তাবনা পেয়েছিলেন। সিরিজের শেষ তিন টেস্টে দলীয় অধিনায়ক বব ওয়াটের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইনলেসলি হিল্টনের দূরন্ত বোলিংয়ে ইংল্যান্ড দল ২১৭ রানে গুটিয়ে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে দল ১০৭ রানে গুটিয়ে গেলেও তিনি ৩৬ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এবার অবশ্য বব ওয়াট তাঁকে নিচেরদিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ২১৭ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় ফেরে।

তবে, শুরুরদিকের প্রতিশ্রুতিশীলতা আর ধরে রাখতে পারেননি। সিরিজের অপর দুই টেস্টে সর্বোচ্চ ১৬ রান তুলতে পেরেছিলেন। ১৪ মার্চ, ১৯৩৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ১১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ম্যানি মার্টিনডেলের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৬১ রানে পরাভূত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

তাসত্ত্বেও, ফ্রি ফরেস্টার্স, মাইনর কাউন্টিজ ও এমসিসি’র পক্ষে কয়েকটি খেলায় বেশ ভালো খেললেও আর প্রথম-শ্রেণীর খেলার সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেননি।

স্টকটনে পারিবারিক আইনী প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অগ্রসর হন। ৫০ বছরের অধিক সময় আইন পেশায় যুক্ত থাকেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। জেআরএ টাউনসেন্ড ও জেসিডি টাউনসেন্ড নামীয় সন্তানদ্বয়ের জনক। ২৭ জানুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে কো ডারহামের নর্টন-অন-টিজ এলাকায় ৮৪ বছর ২৮২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট