২৬ মে, ১৯৭৭ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

মারকুটে বামহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০০৯-১০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহিরা নর্থ, নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি জায়ান্টসের পক্ষে খেলেছেন। সনথ জয়সুরিয়া’র ন্যায় তৎকালীন বিশ্বসেরা ও বিখ্যাত ক্রিকেট তারকাসমৃদ্ধ শ্রীলঙ্কা দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালের কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নিয়ে প্রথমবারের মতো সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন। এ পর্যায়ে শতক হাঁকান ও সেমি-ফাইনালে দলের শীর্ষ রান সংগ্রাহক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করতে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন।

১৯৯৮ থেকে ২০০৬ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও ৬১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

মেলবোর্নে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার সংগৃহীত ৩১১ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে রমেশ কালুবিতরানা’র সাথে ২০ ওভারে ১৪৫ রানের জুটি গড়েছিলেন।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে হাসান তিলকরত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান সফরে যান। ৪ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের তৃতীয় খেলায় তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৪৩ ও ৩৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ওয়াজাহাতুল্লাহ ওয়াস্তি’র জোড়া শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও শ্রেয়তর রান-রেটে শ্রীলঙ্কান দল চূড়ান্ত খেলায় ভারতের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পায়।

২০০০ সালের আইসিসি নক-আউট ট্রফি প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ১৩২ রান তুলেন।

২০০০-০১ মৌসুমে সনাথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৪ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক শন পোলকের অসাধারণ বোলিং শৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২২৯ রানে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

কিন্তু, দায়সারাভাবে উইকেট থেকে বিদেয় নেয়ার প্রবণতা থাকায় ও খেলায় ধারাবাহিকতা রক্ষার অভাবের কারণে দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পেতে ব্যর্থ হন। তাসত্ত্বেও, ২০০৪ সালের নতুন দল নির্বাচকমণ্ডলী পুণরায় তাঁকে দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানায়। তবে, অন্যান্য উদীয়মান খেলোয়াড়কে অগ্রাধিকার প্রদান করায় উপেক্ষার শিকারে পরিণত হন। অতঃপর, এশিয়া কাপে মারভান আতাপাত্তু’র বিশ্রামের কারণে খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন।

নভেম্বর, ২০০৫ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে ঘিরে শ্রীলঙ্কা দলে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। কিন্তু, দুই খেলায় অংশ নিয়েও আহামরি কিছু উপস্থাপন করতে পারেননি। ১০ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২৫ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অনিল কুম্বলে’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৮৮ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এছাড়াও, নববর্ষে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ খেলেন। তবে, একটি খেলায় অংশ নিলেও ব্যর্থতার পরিচয় দেন।

সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সালে অনুমোদনবিহীন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে যোগ দেন। এরফলে, কার্যতঃ তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। তবে, সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সালে তাঁকেসহ অপর চারজন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নেয়ার ছাড়পত্র পান।

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। জুলাই, ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং কোচ হিসেবে দলকে পরিচালনা করেছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট