১ জুন, ১৯৩০ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

কৌশলগত কারণে সঠিকমানের ব্যাটসম্যান ছিলেন ও কার্যকর অফ স্পিন বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড দলের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও বোলিংয়েও বেশ সফল ছিলেন। তবে, টেস্টগুলো থেকে কোন অর্ধ-শতরানের ইনিংসের সন্ধান পাননি। ১৯৫০-৫১ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৫০-৫১ মৌসুম থেকে ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম পর্যন্ত ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এরপর, ১৯৬১-৬২ মৌসুমে আরও তিনটি খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেছিলেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দুইটি শতক হাঁকিয়েছিলেন। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ১৪২ রান তুলেন। অপরটি ওতাগোর বিপক্ষে ১০৩ রান সংগ্রহের পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে ৪/৭৪ লাভ করেছিলেন।

১৯৫৩ থেকে ১৯৫৬ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের মুখোমুখি হন। ১৩ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে অকল্যান্ডে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। মারে চ্যাপেলএরিক ডেম্পস্টারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৪৫ ও ৮* রানের অপরাজিত ইনিংসসহ ২/২৮ ও ২/৪৩ লাভ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এটিই পরবর্তীতে তাঁর সেরা খেলায় পরিণত হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকায় দলের সাথে গমন করেন। পাঁচ টেস্ট থেকে ১৭০ রান তুলেন। সব মিলিয়ে এ সফরে ২২.৯১ গড়ে ৫৫০ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।

এছাড়াও, আর একবার মাত্র বিদেশ সফরে যান। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে পাকিস্তান ও ভারত গমনার্থে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। এ পর্যায়েও অত্যন্ত সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। সাত টেস্ট থেকে মাত্র ১৩২ রান তুলতে সমর্থ হয়েছিলেন।

ঐ মৌসুমে হ্যারি কেভের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ৬ জানুয়ারি, ১৯৫৬ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১৫ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১০৯ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ভারত সফরে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দলের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৫/২৭ লাভ করেছিলেন। দলীয় সঙ্গীদের ন্যায় তিনিও পাকিস্তান ও ভারত সফরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগেন ও মাঠে ফিল্ডিংকালে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ব্যাঙ্গালোর টেস্টে মাঠে প্রবেশকালে কুকুর তাঁকে কামড়ালে অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন পেটে প্রবেশ করানো হয়।

১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে রান খরায় ভুগেন। এ পর্যায়ে ১২.৮৫ গড়ে মাত্র ৯০ রান তুলে অবসর গ্রহণ করেন। তবে, বল হাতে নিজের সেরা মৌসুম অতিবাহিত করেছিলেন। ১৭.৫০ গড়ে ১৬ উইকেট দখল করেছিলেন। চার মৌসুম বাদে আবারও খেলার জগতে প্রবেশ করেন। তিন খেলায় অংশ নিয়ে সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন।

১১ জুন, ২০২০ তারিখে ৯০ বছর ১০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট