জর্জ চ্যালেনর

২৮ জুন, ১৮৮৮ তারিখে বার্বাডোসের ওয়াটারলু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের উচ্চমার্গীয় ব্যাটসম্যানের পরিচিতি লাভ করেন। ১৯২০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ছোটখাটো গড়নের অধিকারী ছিলেন। বলকে বেশ সপাটে আঘাত করতেন। পেশীবহুল ও মজবুত কাঁধের অধিকারী ছিলেন। স্ট্রোকপ্লে খেলাকালীন পূর্ণাঙ্গ কার্যকর প্রভাব ফেলতেন। লেগ-সাইডে খেলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথমদিকের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে-পিছে ক্রিকেট খেলাকে চাকচিক্য এনে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অন্তর্ভুক্তির পূর্বে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯০৫-০৬ মৌসুম থেকে ১৯২৯-৩০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে পাঁচ হাজার রান সংগ্রহের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।

১৯২৩ সালে লেবার্ন কনস্ট্যান্টাইন ও লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইনের সাথে ইংল্যান্ড সফর করেছিলেন। এ সফরে নিজের স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেছিলেন। তাঁর অনবদ্য কৃতিত্বের কারণেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট মর্যাদা লাভের পথ সুগম হয়। একের পর এক খেলাগুলোয় দলের ব্যাটিং অগ্রযাত্রা প্রায় একাকী সামলিয়েছিলেন। মাইকেল ম্যানলি তাঁকে ‘ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটিংয়ের জনক’রূপে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি নামেমাত্র ব্যাটিং বিভাগ পরিবর্তনে অগ্রসর হন। এ সফরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়।

১৯২৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলোই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট সিরিজে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। কার্ল নুনেসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড গমন করেন। টেস্ট ক্রিকেটে দলের প্রথম বল মোকাবেলা করার কৃতিত্বের অধিকারী হন। ৪০ বছর বয়সে এসে ২৩ জুন, ১৯২৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ৫৮ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

কার্ল নুনেসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড গমন করেন। একই সফরের ১১ আগস্ট, ১৯২৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪৬ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ৭১ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে ৯৫ খেলা থেকে ১৫ শতক সহযোগে ৫৮২২ রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। বাষট্টিটি খেলাই ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলেছেন। তন্মধ্যে, একটি ছিল স্কটল্যান্ডে। মিডিয়াম-পেস বোলিং করে ২৪ গড়ে ৫৪ উইকেট পেয়েছেন। কিন্তু, তাঁর সুনাম অন্যত্র লুকিয়েছিল। উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, তাঁর ব্যাটিংয়ের মান ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট পর্যায়ে উপনীত করার চিত্র তুলে ধরে। পারিবারিক খামারের অংশীদার হন। ৩০ জুলাই, ১৯৪৭ তারিখে বার্বাডোসের কলিমোর রক এলাকায় ৫৯ বছর ৩২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। জুন, ১৯৮৮ সালে ৪৫ সেন্টের বার্বাডোস বাকল স্ট্যাম্পে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্মানিত করা হয়। তাঁর সম্মানার্থে কেনসিংটন ওভালের একটি ছাউনি ‘দ্য চ্যালেনর স্ট্যান্ড’ নামে নামকরণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *