| |

বার্বার্টন হলিওয়েল

৭ সেপ্টেম্বর, ১৮৬৪ তারিখে ইংল্যান্ডের ড্রেটন গ্রীন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

উইকেট-রক্ষণে দূর্দান্ত প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথমদিকের সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পান। নিজের সেরা সময়ে অস্ট্রেলীয় জ্যাক ব্ল্যাকহাম ও ইংরেজ গ্রিগর ম্যাকগ্রিগরের সমমানের ছিলেন। উইজডেনে তাঁকে ‘দক্ষিণ আফ্রিকান উইকেট-রক্ষকদের সেরা’ হিসেবে উল্লেখ করে। দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাটিং উইকেটের পিছনে দণ্ডায়মান থেকে বেশ সাহসীচিত্তে ফাস্ট বোলারদের বল গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হতেন।

১৮৯১-৯২ মৌসুম থেকে ১৯০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভাল ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। বিশের বয়সে এসে ট্রান্সভালের সদস্য হন। জোহানেসবার্গ অষ্টাদশের সদস্যরূপে সফররত ওয়াল্টার রিডের নেতৃত্বাধীন একাদশের বিপক্ষে শূন্য ও ১৪ রান তুলেন।

১৮৯২ থেকে ১৯০২ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৯১-৯২ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়াল্টার রিডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ মার্চ, ১৮৯২ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। এ টেস্টের মাধ্যমে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম অংশ নেন। ক্লারেন্স উইম্বল, চার্লস ফিশার্ট, চার্লস মিলস, দান্তে পার্কিন, গডফ্রে ক্রিপস, ফ্লুই ডু টোইট ও টমি রুটলেজের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৮ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জে. জে. ফেরিসের শিকারে পরিণত হন। একচেটিয়া ঐ খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮৯ রানে জয়লাভ করে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের শুরুরদিকে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন শুরু হয়। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোর সাতটিতেই তাঁর দল পরাজিত হয়। ড্র হওয়া একমাত্র টেস্টে তিনি নিজের একমাত্র অর্ধ-শতকের সন্ধান পান। ১৮৯৬ থেকে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিন টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে নেতৃত্ব দেন। কিন্তু, সবগুলো টেস্টেই তাঁর দল পরাজয়বরণ করেছিল।

১৮৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২ মার্চ, ১৮৯৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশকে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে খেলাটি টেস্টের মর্যাদা পায়। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৩ রানের সমকক্ষ হন। দ্বিতীয় ইনিংসে এ সফলতাকে আরও ছাঁপিয়ে যান। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ৪১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৯৭ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯০২-০৩ মৌসুমে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ অক্টোবর, ১৯০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪১ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৭ রান সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিংসহ তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ৮ নভেম্বর, ১৯০২ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ১৩ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

তিনবার ইংল্যান্ড গমন করেন। জন্মসূত্রে মিডলসেক্সের পক্ষে একবার খেলার সুযোগ পান। পাশাপাশি ডব্লিউজি গ্রেসের নেতৃত্বাধীন লন্ডন কাউন্টি একাদশের প্রতিনিধিত্বসহ হ্যাস্টিংসে জেন্টলম্যানের সদস্যরূপে প্লেয়ার্সের বিপক্ষে খেলেন।

প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ৭৫ ক্যাচ ও ৩৭টি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। তন্মধ্যে, টেস্টগুলোয় ১০ ক্যাচ ও দুইটি স্ট্যাম্পিং করেছিলেন। এছাড়াও, কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ১৯.৩৪ গড়ে ১৭০২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সেপ্টেম্বর, ১৮৯২ সালে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত মাদার কান্ট্রি বনাম কলোনিয়াল বর্নের মধ্যকার খেলায় টমি রোটলেজের (১৪৭*) সাথে ১০৫ মিনিটে ২৮৯ রানের নিরবচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। নিজে করেন অপরাজিত ১৩৯ রান। কিছুকাল দক্ষিণ আফ্রিকায় এ জুটির সংগৃহীত রান সর্বোচ্চ রানের মর্যাদা পায়।

১৯০৫ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ২ অক্টোবর, ১৯১৯ তারিখে ট্রান্সভালের হিলব্রো এলাকায় ৫৫ বছর ২৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    ফ্রেডরিক কাইজ

    ২১ মার্চ, ১৮৭০ তারিখে কেপ কলোনির জর্জ এলাকায় জন্মগ্রহকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে বোলিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ১৮৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। দক্ষিণ আফ্রিকান…

  • |

    উইলি ওয়াটসন, ১৯৬৫

    ৩১ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অন্যতম মিতব্যয়ী বোলার হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন। স্ট্যাম্প বরাবর নিখুঁততার সাথে বোলিং করে ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে ‘ডিবলি ডবলি পেসার্স’ ডাকনামে আখ্যায়িত ক্রিস হ্যারিস ও…

  • | |

    জাভেদ আখতার

    ২১ নভেম্বর, ১৯৪০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদেহের অধিকারী অফ-স্পিনার ছিলেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    সেস ডিক্সন

    ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯১ তারিখে ট্রান্সভালের পচেফস্ট্রুম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা পালন করেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অফ-স্পিনের আদলে প্রায় মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে-পিছে ১৯১২-১৩…

  • |

    সিরিল অলকট

    ৭ অক্টোবর, ১৮৯৬ তারিখে তাসমানের লোয়ার মুতেরে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। চমৎকার বামহাতি অল-রাউন্ডার হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন তিনি। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটে খুব কমই সফলতা লাভে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বেশকিছু উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। ১৯২১ থেকে ১৯৪৬ সাল…

  • |

    হনুমা বিহারী

    ১৩ অক্টোবর, ১৯৯৩ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা কাকিন্দায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ধ্রুপদীশৈলীর সঠিকমানসম্পন্ন মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান তিনি। পূব বাতাসের ন্যায় স্থিরচিত্তে খেলে থাকেন। অত্যন্ত স্থির প্রকৃতির ভিভিএস লক্ষ্মণের ন্যায় তাঁর উত্থানপর্বও বেশ ধীরলয়ে ঘটে। তবে, উত্তরণের বিষয়ে অগোচরে ছিল না। ২০১০ সাল…