২৯ জুলাই, ১৯৭০ তারিখে মাসভিঙ্গোর ফোর্ট ভিক্টোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। জিম্বাবুয়ে দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

মাসভিঙ্গো এলাকায় জন্মগ্রহণ করলেও শৈশবকাল অতিক্রান্ত করেন হারারে এলাকায় ও ব্যবসায়িক কারণে মাতাবেলেল্যান্ডে চলে যান। কঠোর পরিশ্রম ও আন্তরিক সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে আদর্শ উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। ফাস্ট-মিডিয়াম সুইং বোলার হিসেবে খেলছেন। মূলতঃ একদিনের খেলার উপযোগী করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন।

সর্বদাই মনেপ্রাণে খেলতেন। প্রায়শঃই জিম্বাবুয়ের শুরুরদিকে উইকেট লাভে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। এছাড়াও কার্যকরী ব্যাটসম্যান ও চমৎকার ফিল্ডার ছিলেন। জাতীয় দলে খেলার পূর্বে বয়সভিত্তিক কোন দলের সাথে যুক্ত হবার সুযোগ পাননি। বিদ্যালয়ের প্রথম একাদশে খেলার জন্যে তাঁকে কয়েক বছর অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল।

আট বছর বয়সে গ্রুমব্রিজ প্রাইমারি স্কুলে অধ্যয়নকালে ক্রিকেটের সাথে প্রথম পরিচিতি লাভ করেন। মিডল্যান্ডসের সাবেক ক্রিকেটার গ্রেগ বেলের ছত্রচ্ছায়ায় প্রথম প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ পান। এছাড়াও, হারারের পারিবারিক বাগানে কাকাতো ভাইয়ের সাথে খেলতেন। পিতা পিটারও মিডল্যান্ডসের পক্ষে লোগান কাপে অংশ নিয়েছিলেন।

সপ্তম গ্রেডে অধ্যয়নকালীন হার্টমান হাউজে চলে যান। কোচ মাইক ন্যাশের কাছ থেকে তখনকার অফ-ব্রেক বোলার হিসেবে সঠিকমানের ব্যাটিং কৌশল রপ্ত করেন। সেন্ট জর্জেস কলেজের অধীন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হার্টমান হাউজের অনূর্ধ্ব-১৩বি দলের অধিনায়কত্ব করেন ও ‘এ’ দলের খেলোয়াড়দের মোহিত করেন। রবিন স্টোকসের পর পরবর্তী দুই বছর অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ও গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারের পিতা বিল ফ্লাওয়ারের কাছে সহায়তা পান ও সাহসী হন। সর্বদাই খেলায় মগ্ন হয়ে পড়েন। অনূর্ধ্ব-১৫ দলের সদস্যরূপে ম্যাশোনাল্যান্ড ‘বি’ দলের সহযোগী দল ফনসের যাচাই-বাছাইয়ের খেলায় অংশ নেন। তবে, এ পর্যায়ে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন ও দূর্ভাগ্যজনকভাবে জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাননি।

চতুর্থ পর্যায়ে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় একাদশে ঠাঁই পান। এরপর প্রথম একাদশের সদস্য হন ও পুণরায় রবিন স্টোকস তাঁর কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। আপার সিক্সথে অধ্যয়নকালীন বিদ্যালয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান ও ম্যাশোনাল্যান্ডের বিদ্যালয় দলের সদস্য হন। তবে, জাতীয় পর্যায়ে খেলতে পারেননি। ১৭ বছর বয়সে ওল্ড জর্জিয়ান্স স্পোর্টস ক্লাবে যোগ দেন। এরপর, উপরের স্তরে উত্তীর্ণ হন। প্রত্যেক স্তরেই সতীর্থদের চেয়ে এগিয়েছিলেন। ক্লাবের অধিনায়ক ও উইকেট-রক্ষক কেভিন মার্ফি তাঁকে প্রভূতঃ সহায়তা করেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখে। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাতাবেলেল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত দলটিতে খেলেন।

ইংল্যান্ডে ক্রিকেট খেলে বেশ সফলতা পেয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে ওরচেস্টারশায়ারভিত্তিক বিউডলি দলের সদস্য ছিলেন। পরের দুই মৌসুম ল্যাঙ্কাশায়ারের উইডনেসের পক্ষে খেলেন। এরপর, ১৯৯৩ সালে লিঙ্কনশায়ারের ক্লিথর্পেসের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। প্রত্যেক দলেই বেশ ভালোমানের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপনে সচেষ্ট ছিলেন ও যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এছাড়াও, একটি খেলায় ১৩০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। এ পর্যায়ে সফলতা লাভে ক্রিজে অবস্থান ও ধৈর্য্য সহকারে ব্যাটিংয়ের দিকে অধিক মনোযোগী ছিলেন। পাশাপাশি বেশ কিছু চমৎকার স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি ছুটিয়েছিলেন।

১৯৯৩ থেকে ২০০০ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ৪৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে জাতীয় দলের সদস্য হন। দলে পেস বোলারের ঘাটতি ছিল। বোলিংয়ে কিছুটা উত্তরণ ঘটান। এ পর্যায়ে তিনি মাত্র ছয়টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেছিলেন। তাসত্ত্বেও, হিরো কাপ খেলার উদ্দেশ্যে ভারত গমনের জন্যে মনোনীত হন ও পাকিস্তান সফর করেন। ১৮ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে ইন্দোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক হয়। স্মরণীয় ভূমিকা রাখেন ও খেলাটি টাইয়ে পরিণত হয়। ভারতীয় ইনিংসের শেষদিকে এক ওভারে চার রান খরচ করে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনশচীন তেন্ডুলকরের উইকেট পান। এরপর, একাদশ খেলোয়াড় হিসেবে ব্যাট হাতে নামেন। তখনো জয়ের জন্যে ১২ রানের দরকার ছিল। সপাটে বলকে মারেন ও আম্পায়ার চার রানের সঙ্কেত দেন। শেষ মুহূর্তে হিথ স্ট্রিক রান-আউটে বিদেয় নিলে খেলাটি টাইয়ে পরিণত হয়। এ সফরগুলোয় উল্লেখযোগ্য কোন বোলিং সাফল্য পাননি। তবে, বলকে নিয়ন্ত্রণে রেখে বাঁক খাওয়াতে পেরেছিলেন।

১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ১ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। গাই হুইটল, গ্লেন ব্রুক-জ্যাকসন, হিথ স্ট্রিক, মার্ক ডেকার ও স্টিফেন পিয়লের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। ওয়াকার ইউনুসের বলে উভয় ইনিংসে এলবিডব্লিউতে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২৪ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ১৩১ রানে তাঁর দল পরাজিত হয়।

পাকিস্তান সফর শেষে বুলাওয়েতে ফিরে যান ও বাক স্টোরেজ কোম্পানীতে কাজ করেন। বুলাওয়ের শক্তিধর ক্লাব ওল্ড মিল্টনিয়ান্সে যোগ দেন। মাতাবেলেল্যান্ডের পক্ষে প্রথম মৌসুমে বেশ সফলতা পান। চার খেলা থেকে ২০ উইকেট দখল করেন।

পরবর্তী ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। পিঠের আঘাতে আক্রান্ত হন। শুধুমাত্র বোলিংয়েই জড়তা ছিল না; বরঞ্চ ছন্দও নষ্ট হয়ে যায়। বাহু নিচেরদিকে ঝুলে পড়ে ও বলকে সুইং করাতে পারেননি। ক্রমাগত ওয়াইড ও নো-বল করতে থাকেন। এছাড়াও, খুব কমই কার্যকর রান পেয়েছেন। প্রায় ৩০ গড়ে রান পেয়েছিলেন। অথচ, এ পর্যায়ে তাঁর পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজন ছিল।

পরের মৌসুমে আবারও খেলায় নিজেকে মেলে ধরেন। লোগান কাপের চূড়ান্ত খেলায় নিজস্ব সেরা ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপন করেন। ডিস্ট্রিক্টসের দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করেন। নিজস্ব দ্বাদশ ওভারে প্রতিপক্ষের শেষ ব্যাটসম্যানকে বিদেয় করলে ১২৮ রানে ডিস্ট্রিক্টস দল গুটিয়ে যায়। ছয় উইকেট লাভ করেন এবং দলকে খেলায় জয়লাভে সহায়তাসহ শিরোপা জয়ে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে ব্যক্তিগতভাবে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ওয়েন জেমসের পদত্যাগের কারণে বেশ কয়েকটি খেলায় মাতাবেলেল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তবে, ক্রমাগত ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে মৌসুম শেষ হবার পূর্বেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে বাধ্য হন। এ পর্যায়ে সর্বদাই জিম্বাবুয়ের পক্ষে সুন্দর খেলা উপহারে সচেষ্ট ছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকের সিরিজ বিজয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। সিরিজের প্রথম ওডিআইয়ে তিন উইকেট লাভ করেন। রনি ইরানীকে কট এন্ড বোল্ড করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেও ভালো খেলেন। জিম্বাবুয়ে দলকে বেশ এগিয়ে নিয়ে যান।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অংশ নেন। এরফলে, টেস্টের ইতিহাসে এক টেস্টে একই দলের তিন জোড়া ভ্রাতৃদ্বয় – এ ফ্লাওয়ার ও জিডব্লিউ ফ্লাওয়ার, পিএ স্ট্র্যাং ও বিসি স্ট্র্যাং এবং জেএ রেনি ও জিজে রেনি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও, ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ১৯ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। ২২ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারের অপরূপ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

খুব কমসংখ্যক ক্রিকেট বিশ্লেষকের কাছেই ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে একদিনের আন্তর্জাতিক ব্যতীত ভূমিকা রাখার ক্ষীণ সম্ভাবনার সৃষ্টি জাগাতে পেরেছিলেন। তবে, মৌসুমের শুরুতেই চমৎকার বোলিংশৈলীর কারণে বিস্ময়করভাবে এবং এডো ব্রান্ডেসহেনরি ওলোঙ্গা’র আঘাতজনিত অনুপস্থিতির কারণে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের জন্যে মনোনীত হন। বেশ ভালোমানের ফিল্ডিং করেন। এছাড়াও, উভয় ইনিংসেই ব্যাট হাতে তৎপরতা দেখান। তবে, বল হাতে নিয়ে বেশ পিছিয়েছিলেন। খেলায় সবমিলিয়ে মাত্র ১১ ওভার বোলিং করেছিলেন। সুইংসহ প্রান্তভাগে বলকে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু কোন উইকেটের সন্ধান পাননি।

তিনটি ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজে অবশ্যম্ভাবী হিসেবে থাকেন। প্রথম দুই খেলায় শুরুরদিকের উইকেট লাভে স্বীয় সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। দূর্ভাগ্যবশতঃ ইনিংসের শেষদিকে বোলিংয়ের ধারা প্রত্যাশা অনুযায়ী করতে পারেননি ও বেশ রান খরচ করে ফেলেন। ব্যবসায়িক চাপের কারণে কেনিয়া সফর থেকে স্বীয় নাম প্রত্যাহার করে নেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের মর্যাদা লাভের পর লোগান কাপে প্রথমবারের মতো ইনিংসে নয়-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। বুলাওয়ে অ্যাথলেটিক ক্লাবে ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৯/৭৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে ব্যক্তিগত কারণে অধিক খেলায় অংশ নিতে পারেননি। মূলতঃ নবজাতকের মৃত্যুই এর প্রধান কারণ ছিল। পরবর্তীতে, অবশ্য তাঁদের আরেকটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে তেমন ভালো খেলেননি। তবে, সফররত অস্ট্রেলিয়ান একাডেমি দলের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় পাঁচ উইকেট লাভ করেছিলেন।

ক্লাব ক্রিকেটে ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে সচেষ্ট ছিলেন। পরবর্তীতে, জাতীয় দলের সদস্য হন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে অনেকটা নিয়মিতভাবে খেলেন। এটিই শীর্ষ স্তরের ক্রিকেটে সর্বশেষ মৌসুম অতিবাহিত করেছিলেন। নিজ দেশে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চারটি একদিনের আন্তর্জাতিকে মিতব্যয়ী বোলিং করে সাতটি উইকেট পেয়েছিলেন। হেনরি ওলোঙ্গা, পম এমবাঙ্গাএভারটন মাতাম্বানাদজো’র ন্যায় প্রতিশ্রুতিশীল, তরুণ প্রতিভাবানদের উত্থানে দৃশ্যতঃ জন রেনি’র আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তির ইঙ্গিত দেয়। সাধারণ দর্শকদের কাছ থেকে সাড়া না পেলেও জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁর মাঝে নিখুঁততা ও নতুনদের চেয়ে অভিজ্ঞতার বিষয়টি অধিক গুরুত্বের দাবীদারে পরিণত হয়।

সকলকে বিস্মিত করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে রাখা হয় ও নিজের সম্ভাবনাকে আরও একবার জাগিয়ে তোলার চেষ্টা চালান। তবে, কম সফল হন ও দল থেকে বাদ পড়েন। লোগান কাপে ৬৩ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ৫/৭০ বোলিং করলেও ম্যাশোনাল্যান্ডের বিরাট বিজয়কে রুখতে পাড়েননি। আঘাতের কারণে মাঠের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হবার পরপরই প্রতিপক্ষ মাঠে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছিল। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় সিরিজে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সমুদ্র উচ্চতায় থাকলেও বলকে সুইং করিয়েছিলেন।

ব্যবসায়িক ব্যস্ততা ও উত্তরোত্তর পারিবারিক চাপের পাশাপাশি জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটে অস্থিরতার কবলে পড়েন। ২০০০-০১ মৌসুমে মাতাবেলেল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। খেলাটি বৃষ্টিবিঘ্নিত ছিল। এরপর খেলা থেকে দূরে সড়ে যান। টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন তেমন উপভোগ করতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, দলের অত্যন্ত কার্যকর অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছিলেন। তাঁর প্রতিজ্ঞাবদ্ধতা ও চেষ্টার বিষয়ে কোন প্রশ্নের মুখোমুখি হননি।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। টেরি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট তারকা অরবিন্দ ডি সিলভা’র বিপক্ষে বোলিং করে যথেষ্ট বেগ পেতেন। গুদামজাতকরণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হন। ১ জুলাই, ২০১১ তারিখে ডেভিড মুতেন্দেরা’র সাথে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট