২১ মে, ১৮৬৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড – উভয় দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী জে. জে. ফেরিস শক্ত-মজবুত গড়নের কাঁধের কারণে বলে পেস আনয়ণ করতে পারতেন। বলে ক্রমাগত সুইং করতে পারতেন। ওভার দি উইকেট বরাবর বামহাতে সিম বোলিং করতেন, লেগের দিকে পিচে বল ফেলতেন ও ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের লক্ষ্য করে বাইরের দিকে সুইং করে বল ফেলতেন। প্রায়শঃই বোলিং ভঙ্গীমা পরিবর্তন না করেই এগুলো করতেন। সাধারণভাবে নিখুঁতভাব বজায় রাখতেন। এমনকি বলে স্পিন আনয়ণেও সক্ষম ছিলেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হতেন। দৃশ্যতঃ তাঁকে ক্লান্তিহীন অবস্থায় দেখা যেতো।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার এবং অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৮৯৭-৯৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন।

১৮৮৭ থেকে ১৮৯২ সময়কালে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৮টি ও ইংল্যান্ডের পক্ষে ১টি টেস্টে অংশ নেন। টেস্টে স্বল্প অংশগ্রহণ সত্ত্বেও অবিশ্বাস্য রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়িত রেখেছেন। ১৩-এর কম গড়ে ৬১ উইকেট দখল করেন। সব মিলিয়ে ১৬ ইনিংসে বোলিং করেন। চার বা ততোধিক উইকেট ১০বার লাভ করেন। ৫০ উইকেট লাভকারী বোলারদের মধ্যে কেবলমাত্র জর্জ লোহমান শ্রেয়তর গড়ে তাঁর তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন।

ঊনবিংশ শতকে চার্লি টার্নারের সাথে নতুন বলের সেরা জুটি গড়েন। টার্নার যদি টেরর হন, ফেরিস তাহলে ফ্রেন্ডের ভূমিকা অবতীর্ণ হয়েছিলেন। একের পর এক প্রতিপক্ষের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙ্গে ফেলতে তৎপরতা দেখান। আট টেস্টে তাঁরা একত্রে খেলেছিলেন। টার্নার ৫৬ উইকেট ও তিনি ৪৮ উইকেট দখল করলেও দলের বাদ-বাকীরা ২১ উইকেট দখলে সক্ষম হয়েছিলেন। দুইবার টেস্টের পূর্ণাঙ্গ ইনিংসে কোনরূপ পরিবর্তন না ঘটিয়ে বোলিং করেছিলেন।

১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৮ জানুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। চার্লি টার্নার ও হ্যারি মোজেসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪/২৭ ও ৫/৭৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারী দল ১৩ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৮৯০ সালে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১১ আগস্ট, ১৮৯০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪/২৫ ও ৫/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, ৬ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জ্যাক বারেট সহজ রান-আউট করতে ব্যর্থ হলে ওভারথ্রোয়ের কারণে ইংল্যান্ড দল দুই উইকেটে বিজয়ী হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৮৯১-৯২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ওয়াল্টার রিডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলার পর ইংল্যান্ডের পক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ১৯ মার্চ, ১৮৯২ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফল ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে সি মিলসের দ্বিতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে ডিসি পার্কিনকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/২৬। দ্বিতীয় ইনিংসে এ সফলতাকে আরও ছাঁপিয়ে যান। এ পর্যায়ে ডব্লিউএইচ মিল্টনকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৬/৫৪। খেলায় তিনি ৬/৫৪ ও ৭/৩৭ লাভ করেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮৯ রানে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

বোয়ের যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাথে যুক্ত থাকেন। ডারবানে অবস্থান করেন। টাইফয়েড (আন্ত্রিক) জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১৭ নভেম্বর, ১৯০০ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যাডিংটনে মাত্র ৩৩ বছর ১৮০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট