| |

মোহাম্মদ ইলিয়াস

১৯ মার্চ, ১৯৪৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৬১-৬২ মৌসুম থেকে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে লাহোর, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইন্টারন্যাশনাল ওয়ান্ডারার্সের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৬৪ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ১০ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর মাঝে কেবলই আন্তর্জাতিক খেলার গুণাবলী দৃশ্যমান ছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটে তেমন ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন না করা সত্ত্বেও ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমনার্থে পাকিস্তান দলের সদস্য করা হয়। মাঝারিসারিতে খেললেও পরবর্তীতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে চিত্রিত করেন।

কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় ৪৬ ও ১১৫ রানের ইনিংস খেলেন। ফলশ্রুতিতে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটিমাত্র টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অংশ নেয়ার জন্যে মনোনীত করা হয়। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে মেলবোর্নে অনষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরিফ বাটফারুক হামিদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে ৬ ও ৩ রান তুলেছিলেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীতে, সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা ১৫৪ রান তুলে পুণরায় খেলার জগতে ফিরে আসেন।

একই সফরে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রত্যেকটিতেই অংশ নেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে কিছুটা সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ২২ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ০/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি ১৩ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ২৯ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১০ ও ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। আবারও, ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৬ রান অতিক্রম করেন। ঐ খেলায় তিনি ৮৮ ও ১৩ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করাসহ ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।

তবে, ঐ মৌসুমের শেষদিকে নিউজিল্যান্ডের ফিরতি সফরে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে পুণরায় স্থান দখল করেন। প্রথম টেস্টে ৫৬ রানের ইনিংস খেলার পর তৃতীয় টেস্টে ১২৬ রান সংগ্রহ করেন। এটিই তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র শতরানের ইনিংস ছিল। ঐ টেস্টে জয়সূচক রান তুলতে গিয়ে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন। এরপূর্বে নব্বুইয়ের কোটায় উপর্যুপরী চারটি চারের মার মারেন।

পাকিস্তান দলে আবারও খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে তাঁকে দুই বছর অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। এ পর্যায়ে তিনি খুব কমই ভূমিকা রেখেছিলেন। তাসত্ত্বেও, ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে দলে রাখা হয়। পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। এছাড়াও, পায়ের আঘাতে জর্জড়িত ছিলেন। সিরিজের শেষ টেস্টে অংশ নিয়ে ব্যর্থতার পরিচয় দেন।

১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে নিজ দেশে কলিন কাউড্রে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। এ সফরে দুই টেস্টের চার ইনিংস থেকে ৪২ রান তুলতে পেরেছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২০ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। সফরের শুরুতে মুখে আঘাত পান ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। নিজ দেশে ফেরার চেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় নাগরিকত্বের আবেদন করেন। ঐ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত সিডনিভিত্তিক ওয়াভার্লির পক্ষে গ্রেড ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে বিসিসিপি ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় সর্বশেষ খেলেন। পিআইএ’র শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন।

এক পর্যায়ে পাকিস্তান দলের নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ৮ জুন, ২০১১ তারিখে পিসিবি থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। তবে, ২৯ জুন, ২০১১ তারিখে তাঁর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

Similar Posts

  • | |

    আলিমুদ্দীন

    ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৩০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজস্থানের আজমিরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে মাঠে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পাকিস্তানের ক্রিকেটের সূচনালগ্নে অন্যতম উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন। রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন ও অসাধারণ ফিল্ডার ছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনালগ্ন থেকে স্বীয়…

  • |

    ইজাজ আহমেদ, ১৯৬৯

    ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে পাঞ্জাবের লায়লপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ইজাজ আহমেদ জুনিয়র’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে অ্যালাইড ব্যাংক,…

  • |

    কর্ণ শর্মা

    ২৩ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে উত্তরপ্রদেশের মিরাটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে বামহাতে কার্যকর ব্যাটিং করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল, রেলওয়ে ও বিদর্ভের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • |

    লরি মিলার

    ৩১ মার্চ, ১৯২৩ তারিখে টারানাকির নিউ প্লাইমাউথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে তিনি মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫০-৫১ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও ঘরোয়া আসরে অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন।…

  • |

    লেসেগো সেনোকোয়ান

    ২৪ মে, ১৯৯৭ তারিখে নর্থ ওয়েস্ট প্রভিন্সের ক্লার্কসডর্প এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট ক্রিকেট খেলছেন। লায়েরস্কুল প্রেসিডেন্ট এন্ড সেন্ট কনরাডস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নর্থ ওয়েস্টের…

  • | |

    ব্রুস টেলর

    ১২ জুলাই, ১৯৪৩ তারিখে ক্যান্টারবারির তিমারু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, বামহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ১৯৭০-এর দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড দলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। বল হাতে নিয়ে উভয় দিক দিয়ে বোলিং আক্রমণে…