১ মার্চ, ১৯৫৮ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারের সন্তান ছিলেন। খুব ছোটবেলা থেকেই চমৎকার উইকেট-রক্ষক হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটান। রাজ্য দলের পক্ষে কেবলমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবেও খেলতে পারতেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম থেকে ১৯৯০-৯১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সাউথ অস্ট্রেলিয়া বনাম ভিক্টোরিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান। তবে, সীমিত পর্যায়ের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে সর্বোচ্চ ২২ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।
১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২৭ টেস্ট ও ৪৮টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে নিজ দেশে জহির আব্বাসের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১১ নভেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে পার্থের ওয়াকায় অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্ট অভিষেকে শতক হাঁকিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে বেশ সাড়া জাগান। মাঝারিসারি থেকে সম্মুখসারির ব্যাটসম্যানে পরিণত হন। খেলায় তিনি ১৫৯ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। কার্ল র্যাকেম্যানের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
তারকা ক্রিকেটার গ্রেগ চ্যাপেল, ডেনিস লিলি ও রড মার্শের অবসর গ্রহণের পর দলের ক্রান্তিকালীন সময়ে তাঁকে উইকেট-রক্ষণে নামানো হয়। তবে, অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণের ফলে অপরিসীম প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাপক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। কয়েক বছরের মধ্যেই ব্যাটিংয়ে ছন্দপতন ঘটে। খুব শীঘ্রই উভয় স্তরের ক্রিকেট থেকে বাদ পড়েন।
১৯৮৫ সালে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৩ জুন, ১৯৮৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩০ ও ৯১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, টিম রবিনসনের অসাধারণ ব্যাটিং দাপটে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৮ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৪ ও ২ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে রিচার্ড হ্যাডলি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। পাশাপাশি, শততম ওভার থেকে জিওফ লসনের রানারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তবে, রিচার্ড হ্যাডলি’র অনবদ্য অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৪১ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে কপিল দেবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ২২ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে রবি শাস্ত্রী’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, কৃষ শ্রীকান্তের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।
একই মৌসুমে ফিরতি সফরে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৩ মার্চ, ১৯৮৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬২ ও ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। জন ব্রেসওয়েলের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
মজবুত গড়নের অধিকারী, ধ্রুপদীশৈলীর ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ছন্দে থাকাকালে দর্শনীয় স্ট্রোকপ্লে খেলতেন। অনেক অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানের ন্যায় তিনিও আনুভূমিক ব্যাটিং করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। সচরাচর, স্কয়ার অঞ্চলে বলকে ঠেলে পাঠাতেন। তবে, বেশ আগেভাগেই খেলোয়াড়ী জীবন থেকে দূরে সড়ে যান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও সাউথ অস্ট্রেলিয়া দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। তবে, নিজেকে কখনও শুরুরদিকের ন্যায় মেলে ধরতে পারেননি।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার কোচের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন। ১৬ মার্চ, ২০০৭ তারিখে এ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। এছাড়াও, নাইন নেটওয়ার্কে ধারাভাষ্য কর্মের সাথে জড়ান।
