১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে ট্রান্সভালের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০০৯-১০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বোল্যান্ড, নাইটস, ইস্টার্নস ও নর্দার্নসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, নর্দার্নস ইনভাইটেশন একাদশ, প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস, ডারবান হিট, তশন স্পার্টান্স ও টাইটান্সের পক্ষে খেলেছেন। ৮ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে ইস্ট লন্ডনে নর্দার্নস বনাম বর্ডারের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

কোঁকড়ানো চুলের অধিকারী লেগ-স্পিনার তিনি। নিচেরসারিতে ফুরফুরে মেজাজে বড় ধরনের মারে অভ্যস্ত। জাতীয় দলে আমন্ত্রণ বার্তা লাভের পূর্বে ৯৬টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় প্রায় সাড়ে তিনশত উইকেট পান ও পাঁচটি শতরানের ইনিংসের অভিজ্ঞতালব্ধ ছিলেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে টাইটান একাদশে স্থান লাভের প্রশ্নে বামহাতি রিস্ট-স্পিনার তাবরাইজ শামসী’র সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। প্রাদেশিক ক্রিকেট ও বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্রিকেটেও এর ব্যতিক্রম ছিল না। তবে, যখনই খেলার সুযোগ পেতেন তখনি নিজেকে উজার করে মেলে দিতেন।

২০১৬-১৭ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় টাইটান্সের শিরোপা বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ প্রতিযোগিতায় মাত্র অর্ধেক খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েও পঞ্চম সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হয়েছিলেন। ১৮.৯৩ গড়ে ৩২ উইকেট দখল করেছিলেন।

২০১৮ সালে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। এপ্রিল-মে, ২০১৮ সালে ভারতে স্পিন-বোলিং শিবিরে অংশগ্রহণসহ ‘এ’ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ৩১ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলে লেগ-স্পিনার হিসেবে যুক্ত হন। শ্রীলঙ্কা বোর্ড একাদশ ও ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে খেলেন। ২০১৭-১৮ মৌসুমের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। উইকেট লাভে সক্ষমতা ও নিয়মিতভাবে রান সংগ্রহের কারণে জুলাই, ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কা গমনার্থে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলের সদস্য হন। তবে, কেশব মহারাজকে অগ্রাধিকার করা হলে তাঁকে নিরাশ হতে হয়।

২০২২-২৩ মৌসুমের ঘরোয়া ক্রিকেটে বোল্যান্ডের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা বোলার হিসেবে মনোনীত হন। এছাড়াও, বর্ষসেরা একদিনের খেলোয়াড় হিসেবে তাঁকে মনোনয়ন দেয়া হয়। ২০২৩-২৪ মৌসুমকে ঘিরে বোল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ক্লাইড ফরচুনের সাথে তাঁকেও চুক্তিতে নিয়ে আসে।

২০২৩-২৪ মৌসুমে নীল ব্র্যান্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩৮ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১০০ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। তবে, উইলিয়াম ও’রোর্কের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা খেলায় ৭ উইকেটে জয়লাভসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট