১২  ডিসেম্বর, ১৮৭৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের চ্যাটসউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে বোলিং করতেন। ১৯০০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯০৩-০৪ মৌসুম থেকে ১৯২০-২১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শুরুতে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষাবলম্বন করে একটি খেলায় অংশ নেন। এরপর ব্রিসবেনে চলে যান। সেখানে কুইন্সল্যান্ডের ব্যাটসম্যান হিসেবে বিরাট পরিচিতি লাভ করেন। রাজ্য দলের পক্ষে ৫৯ ও অস্ট্রেলীয় একাদশের সদস্যরূপে সফররত এমসিসি’র বিপক্ষে অপরাজিত ৫৫ রান তুললে তাঁকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ এনে দেয়।

১৯০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯০৭-০৮ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রেডরিক ফেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১০ জানুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। জ্যাক ও’কনরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের সংগ্রহ ১৭৯/৬ থাকাকালে মাঠে নামেন। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে ও চার ঘণ্টার অল্প বেশী সময় নিয়ে ১১৬ রানের মনোজ্ঞ শতক হাঁকান। পয়েন্ট অঞ্চলে দণ্ডায়মান চশমা পরিহিত অতিরিক্ত খেলোয়াড় ডিক ইয়ং তাঁর ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এ পর্যায়ে ক্লেম হিলের (১৬) সাথে অষ্টম উইকেটে ২৪৩ রানের জুটি দাঁড় করান। তাঁদের সংগ্রহটি অদ্যাবধি অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও, ঐ সময়ে যে-কোন উইকেটে এটি সর্বোচ্চ ছিল। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৪৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পাশাপাশি, ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ২৪৫ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে জ্যাক ক্রফোর্ডের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ৪৯ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এছাড়াও, ১৯০৮ সালে এম. এ. নোবেলের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেছিলেন। কিন্তু সেখানে ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি। কেবলমাত্র গ্লাসগোতে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের বিপক্ষে একটি শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। ঐ সফরে ৩৩ ইনিংস থেকে ১৮.৮৪ গড়ে রান পেয়েছিলেন।

ক্রিকেটের বাইরে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে বেসবল ও কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে ল্যাক্রোজ খেলতেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ৩৫ বছর অস্ট্রেলিয়ান কন্ট্রোল বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, ব্রিসবেন ক্রিকেট গ্রাউন্ড ট্রাস্টের সভাপতি ছিলেন। ৭ জুন, ১৯৫৮ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের ব্রিসবেনে ৭৮ বছর ১৭৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট