৯ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে মহারাষ্ট্রের থানে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০১৭-১৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মুম্বইয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের পক্ষে খেলেছেন। ১ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে রাজকোটে অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ু বনাম মুম্বইয়ের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০১৮ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শিরোপা বিজয়ী ভারত দলকে সফলতার সাথে নেতৃত্ব দেন। ১৪ বছর বয়সে হারিস শীল্ডে নিজ বিদ্যালয় রিজভী স্প্রিংফিল্ডের পক্ষে অপূর্ব ইনিংস খেলেন। ৩৩০ বল মোকাবেলান্তে ৫৪৬ রান তুলেন। এ ইনিংসে ৮৫টি বাউন্ডারি ও ৫টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। এরফলে সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন।
আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেকে উপস্থাপিত করেন। নভেম্বর, ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ যুব এশিয়া কাপের শিরোপা বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। এরপর থেকে শচীন তেন্ডুলকরের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে বিবেচিত হতে থাকেন। এ তুলনায় আরও ভিত্তি তৈরী হয় যখন রঞ্জী ট্রফি ও দিলীপ ট্রফির অভিষেক খেলাতেই শতক হাঁকিয়েছিলেন। এরফলে, শচীন তেন্ডুলকরের রেকর্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত করতে সমর্থ হন।
দিল্লিভিত্তিক বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দলের সদস্যরূপে ইন্ডিয়ান টি২০ লীগে অংশ নেন। ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর বিক্রয়মূল্য ছিল ₹১.২ কোটি ভারতীয় রূপী। ব্রায়ান লারা’র ন্যায় তিনিও ব্যাট উঁচিয়ে খেলে থাকেন। ধ্রুপদীশৈলীর ড্রাইভ ও ফ্লিকে ক্রিকেট বিশ্লেষকসহ দর্শকদের নির্মল আনন্দে অগ্রসর হন। আগস্ট, ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দুই টেস্ট খেলার জন্যে তাঁকে ভারত দলে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে, তাঁকে খেলানো হয়নি।
২০১৮ সাল থেকে ভারতের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৪ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে রাজকোটে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শচীন তেন্ডুলকরের পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে শতক হাঁকানোর গৌরবের অধিকারী হন। ১৩৪ রানের ইনিংস খেলে দলের ইনিংস বিজয়ে অংশ নেন ও ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
দ্বিতীয় টেস্টেও একই ধারা অব্যাহত রাখেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ পুরস্কারে ভূষিত হন। একই সফরের ১২ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে হায়দ্রাবাদের ডেকানে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৭০ ও অপরাজিত ৩৩ রান তুলেন। তবে, উমেশ যাদবের দূর্দান্ত বোলিংয়ের কারণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে।
ডাউন আন্ডার সফরেও তাঁকে ভারতের টেস্ট দলে রাখা হয়। দূর্ভাগ্যবশতঃ আঘাতের কবলে পড়লে প্রথম টেস্টে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হওয়াসহ সিরিজের বাদ-বাকী খেলাগুলোয়ও অংশ নিতে পারেননি।
২০১৯ সালে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে ব্যাঘাত ঘটে। বিসিসিআইয়ের মাদক পরীক্ষায় নেতিবাচক ফলাফলে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে, কাশির সিরাপে মিশ্রিত উপাদানের উপস্থিতির কথা বলা হয়।
২০১৯-২০ মৌসুমে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৬ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেন। তবে, টিম সাউদি’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২০-২১ মৌসুমে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক টিম পেইনের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীতে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
হাত ও চোখের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে রানের চাকা সচল রাখতে তৎপর হন। আইপিএলে তাঁর শুরুটা চোখে পড়ার মতো। টেস্ট অভিষেকের শতরানের ইনিংসটিও আক্রমণাত্মক ধাঁচে গড়ে উঠেছিল।
২০১৮ সালে আইসিসি’র শীর্ষ-৫ সহসা আবির্ভূত তারকার পুরস্কার লাভ করেন। শচীন তেন্ডুলকরের সাথে পিতাকে আদর্শ হিসেবে মানেন। ভারতের পক্ষে বিশ্বকাপের শিরোপা বিজয়ের সাথে নিজেকে জড়ানোর সংকল্প ব্যক্ত করেন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ভারতের শিরোপা বিজয়কালীন স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন।
