২২ আগস্ট, ১৯৫৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নর্থ সিডনি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। অ্যাশেজ সিরিজের পূর্বে দল নির্বাচকমণ্ডলী ভুলবশতঃ তাঁকে মার্ক টেলর হিসেবে তাঁকে ভেবেছিলেন। এ পর্যায়ে তিনি মাত্র ছয়টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অভিজ্ঞতাপুষ্ট ছিলেন।
১৯৮৭ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্ট ও ৮৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩০ বছর বয়সে ১০ জানুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্টটিতে দারুণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। খেলায় তিনি ৬/৭৮ ও ২/৭৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১১ ও ৪২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৫৫ রানে জয় পেলেও স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। একই সফরের ১৮ জানুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে ব্রিসবেনে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
এরপর থেকে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে বেশ হিমশিম খেতে থাকেন। তবে, একদিনের খেলোয়াড় হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটাতে তৎপর ছিলেন। ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শিরোপা বিজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
১৯৮৯-৯০ মৌসুমে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৫ মার্চ, ১৯৯০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২৯ ও ৮৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৪৪ ও ০/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক জন রাইটের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পায়।
১৯৯১-৯২ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ০/২০ ও ১/৪০ লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ব্রুস রিডের অপূর্ব বোলিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
পরের সপ্তাহের সিডনি টেস্টে শেন ওয়ার্ন তাঁর স্থান দখল করে নেন। টেস্টগুলো থেকে ৩৯.৫৫ গড়ে উইকেট ও ২৭ গড়ে রান পেয়েছেন। ওডিআইয়ে ২৮ গড়ে ৯৭ উইকেট দখল করেন ও ওভারপ্রতি ৪.১৭ রান খরচ করেছিলেন।
বুদ্ধিমান ও তড়িৎকর্মা হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে। ১৯৯০ সালে ব্রিসবেনে চলে আসেন। কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় সিসি ও কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে দুই মৌসুম খেলেন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়া দলের নির্বাচক হিসেবে মনোনীত হন।
ক্রিকেটের পাশাপাশি গল্ফে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। মোরি ভেটারান্স গল্ফ ক্লাব ম্যাচ প্লে চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধনী আসরের শিরোপা জয় করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। জুলি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। চার্লি নামীয় সন্তানের জনক।
