১৪ মার্চ, ১৯৬৩ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অসবর্ন পার্ক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৬ ফুট ৮ ইঞ্চির (২.০৩ মিটার) দীর্ঘ উচ্চতার অধিকারী। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৪ সালে দলটির পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। দূর্দান্ত খেলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা অর্জন করেন ও টেস্ট দলে জায়গা করে নেন।
টেস্টের তুলনায় ওডিআই অভিষেকে দারুণ খেলেন। ১৯৮৬ সালে বেনসন এন্ড হেজেস ত্রি-দেশীয় সিরিজে অংশ নেন। ১২ খেলায় অংশ নিয়ে ১৭ উইকেটের সন্ধান পান। ঐ সিরিজে প্রথম অস্ট্রেলীয় বোলার হিসেবে ওডিআইয়ে হ্যাট্রিক লাভের গৌরব অর্জন করেন। এসসিজিতে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এ সফলতা পান।
১৯৮৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২৭ টেস্ট ও ৬১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে কপিল দেবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মার্ভ হিউজ ও জিওফ মার্শের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। ঐ সিরিজে ১১ উইকেট দখল করেছিলেন।
একই মৌসুমে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ০ রানে অপরাজিত ছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১০৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/১০০। বল হাতে নিয়ে তিনি ৪/৯০ ও ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়কের জোড়া শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে নিজ দেশে জেফ ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৮৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ৪/৬৪। বল হাতে নিয়ে ২/৪০ ও ৪/৫৩ লাভ করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ডেভিড বুনের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণ খেলেন। ৭ অক্টোবর, ১৯৮৮ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৩/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জিওফ মার্শের জোড়া অর্ধ-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে জয় পায়। ১৪ উইকেট দখল করে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।
সময় যতো গড়াতে থাকে, ততো আঘাতের কবলে পড়তে থাকেন। এ পর্যায়ে মাঝে-মধ্যে খেলায় অংশ নিতেন। তাসত্ত্বেও কিছু টেস্টে নিজেকে বেশ মেলে ধরেছিলেন। ১৯৯০ সালের অ্যাশেজ সিরিজে বিস্ময়কর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। মেলবোর্নে সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেরা খেলা প্রদর্শন করেন। প্রথম ইনিংসে ৬/৯৭ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৭/৫১ পেয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। ঐ টেস্টে ১৪৮ রান খরচায় ১৩ উইকেট নিয়ে দলকে আট উইকেটে জয় এনে দেন। ঐ সিরিজে ১৬ গড়ে ২৭ উইকেট দখল করেছিলেন।
এর এক বছর পর ১৯৯১-৯২ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। আরও একবার সফলতার সন্ধান পান। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে স্বরূপ ধারন করেন। বল হাতে নিয়ে ৬/৬৬ ও ৬/৬০ লাভ করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার আট উইকেটের বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/১১২ ও ২/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১* ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ডেভিড বুনের দূর্দান্ত ব্যাটিং সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে শুরু থেকেই তাঁর মাঝে ব্যাপক প্রতিশ্রুতিশীলতা লক্ষ্য করা যায়। দলের প্রধান বোলার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে তেমন সময় নেননি। তবে, ক্রমাগত আঘাতপ্রাপ্তির কারণে অকালে ও দূর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে সমাপ্তি ঘটে।
টেস্টগুলোয় ২৪.৬৩ গড়ে ১১৩ উইকেট লাভ করেন। তবে, ব্যাট হাতে মোটেই সুবিধের ছিলেন না। বল হাতে ১১৩ উইকেট পেলেও ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বমোট ৯৩ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। অর্থাৎ, টেস্ট ক্রিকেটে সংগৃহীত রানের তুলনায় উইকেট সংগ্রহ করেছেন অধিক।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২০০৩ সালে ভারতের বোলিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন। হ্যাম্পশায়ারের বোলিং কোচ হিসেবে মনোনীত হন। জেএফ রিড সম্পর্কে তাঁর কাকাতো ভাই।
