২০ সেপ্টেম্বর, ১৯২১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সিন্ধুর করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ভারত বিভাজনের পর তাঁর পরিবার গুজরাতে চলে আসে। টেস্টে ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন ও মাঝে-মধ্যেই উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে আসতেন। তবে, তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন কেবলমাত্র একটি সিরিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৪৩-৪৪ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে গুজরাত ও সিন্ধুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৫২-৫৩ মৌসুমে সফররত পাকিস্তান দলের বিপক্ষে খেলে প্রথমবারের মতো স্বীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। ওয়েস্ট জোনের সদস্যরূপে ১৪২ রান তুলেছিলেন। পরের মৌসুমে তিনটি শতক সহযোগে ৯৩ গড়ে ৪৬৫ রান তুলেন। তন্মধ্যে, পিটার লোডার, স্যাম লক্সটন, জ্যাক আইভারসনসমৃদ্ধ কমনওয়েলথ একাদশের বিপক্ষে ১০৭ ও ২৪ রান তুলেন। এরফলে, টেস্ট দলে খেলার পথ সুগম হয়।
১৯৫৫ সালে ভারতের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে বিনু মানকড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ১ জানুয়ারি, ১৯৫৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। নরেন তামানে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২৬ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এ সফরে চার ইনিংসের তিনটিতে শতরানের ইনিংস খেলেছেন। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোর সবকটিতেই পঙ্কজ রায়ের সাথে ইনিংস উদ্বোধনে নেমে দুইবার পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েছিলেন। পাঁচ টেস্টে দশবার মাঠে নেমে সাতবার দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করলেও কোনটিতেই ৩৩-এর অধিক রান সংগ্রহ করতে পারেননি। বাহাওয়ালপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে এ রান তুলেন। এ পর্যায়ে পঙ্কজ রায়ের সাথে ৫৮ রানের জুটি গড়েন যা তাঁদের মধ্যে এ সিরিজে সর্বোচ্চ ছিল। লাহোরে অনুষ্ঠিত পরের টেস্টে ৫২ রানের আরও একটি উদ্বোধনী জুটি গড়েন। ১৬.৪০ গড়ে ১৬৪ রান তুলেছিলেন। ঐ সিরিজে ভারতে পক্ষে ব্যাটিং গড়ে পঙ্কজ রায়, পলি উমরিগড় ও বিজয় মাঞ্জরেকারের পর চতুর্থ স্থানে ছিলেন। সব মিলিয়ে ঐ সফরে ২৩.১১ গড়ে ৩৯৩ রান পান। এরপর আর তাঁকে কোন টেস্টে অংশ নিতে দেখা যায়নি।
২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৫ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১২ ও ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল ও সিরিজটি অমিমাংসীত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২৩ মে, ২০১৪ তারিখে মাধব মন্ত্রী’র দেহাবসানের ফলে তাঁর চেয়ে ১৯ দিনের ছোট হিসেবে ভারতের বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। তাঁর মৃত্যুতে দীপক শোধন ভারতের বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। ১৬ বছর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সক্রিয় ছিলেন। সিন্ধু ও গুজরাত দলের পক্ষে সম্মিলিতভাবে ৩২টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছেন। ছয়টি শতরানের ইনিংসসহ ৩৮ গড়ে ১৯৫৩ রান তুলেছেন। ছয়বার শতরানের সন্ধান পান।
সিন্ধী ভাষায় কথা বলতে পারতেন। বার্মা শেলে চাকুরী করতেন। ৯০তম জন্মদিন উদযাপনের পর আরও দুই সপ্তাহ জীবিত ছিলেন। ৪ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে ৯০ বছর ১৪ দিন বয়সে মহারাষ্ট্রের বোম্বে হাসপাতালে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন এমজে গোপালন, কোটা রামস্বামী, মাধব মন্ত্রী ও মুশতাক আলী’র পর ভারতের পঞ্চম বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন।
