|

ওশাদা ফার্নান্দো

১৫ এপ্রিল, ১৯৯২ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ধ্রুপদীশৈলীর শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। মোরাতুয়াভিত্তিক সেন্ট সেবাস্টিয়ান কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১০-১১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে চিল ম্যারিয়ান্স ক্রিকেট ক্লাব, কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব ও মুরস স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডাম্বুলা ভাইকিংসের পক্ষে খেলেছেন।

২০১১ সালে ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ১৮ বছর বয়সে কোল্টস ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ১ এপ্রিল, ২০১১ তারিখে কলম্বোর কোল্টসে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় প্রতিপক্ষ ছিল লঙ্কান ক্রিকেট ক্লাব। মাঝারিমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে প্রায় সাত বছর পর দলে আসা-যাবার পালায় ছিলেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। নয় খেলায় অংশ নিয়ে ছয়টি শতক সহযোগে ১১৮১ রান তুলেন। এরফলে, প্রিমিয়ার লীগ টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ঐ মৌসুমে খেলার ছন্দ অন্যান্য স্তরের ক্রিকেটেও প্রবাহিত হয়। সুপার ফোর প্রভিন্সিয়াল টুর্নামেন্ট ও এসএলসি টি২০ টুর্নামেন্টেও দারুণ খেলেন।

২০১৯ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। জাতীয় দলে খেলার জন্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ২০১৮-১৯ মৌসুমে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। লাসিথ এম্বুলদেনিয়া’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/১০ ও ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৯ ও ৩৭ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কার অনবদ্য বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। তবে, কুশল পেরেরা’র অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা নাটকীয়ভাবে ১ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৭ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ০ ও ৭৫* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কুশল মেন্ডিসের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। একই সফরের ৩ মার্চ, ২০১৯ তারিখে জোহানেসবার্গে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

২০১৯-২০ মৌসুমে পাকিস্তান সফরের জন্যে ওডিআই ও টি২০আই দলের সদস্য হন। এ পর্যায়ে দলের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করায় তিনি এ সুযোগ লাভ করেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে দলের ৩-০ ব্যবধানের বিজয়ে অংশ নেন। অভিষেকে ৭৮ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন ও ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এ সফরের ৯ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথম খেলেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বহমান রাখতে তৎপর হন। টেস্ট খেলায় সুন্দর অবদানের পর সাদা-বলের ক্রিকেট খেলার জন্যে দলে যুক্ত হন। তবে, সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। দৃশ্যতঃ সীমিত-ওভারের খেলার চেয়ে টেস্ট ক্রিকেটেই তাঁকে অধিক উপযোগী হিসেবে পরিগণিত হতে থাকেন।

২০১৯ সালে টেস্ট অভিষেকে স্মরণীয় অবদান রাখেন। উপমহাদেশের বাইরে অভিষেক টেস্টে খুব স্বল্পসংখ্যক এশীয় ব্যাটসম্যানের অন্যতম হিসেবে দলকে টেস্ট জয়ে বিশাল ভূমিকা রাখেন। নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় অপরাজিত অর্ধ-শতক হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেন। এরফলে, প্রথম এশীয় দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ বিজয়ে অসামান্য অবদান রাখতে সমর্থ হন। চমৎকার অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলে দলকে অবিশ্বাস্যভাবে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ধবল ধোলাইয়ে বিশাল অবদান রাখেন। এ ইনিংস খেলাকালীন ফাস্ট বোলারদেরকে দূর্দান্ত মোকাবেলা করেন। দৃষ্টিনন্দন শট উপহারের পাশাপাশি পিছনের পায়ে ভর রেখে অফ-সাইডে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যে খেলেছেন।

২০২১ সালে নিজ দেশে মমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২১ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দলীয় অধিনায়ক ডিমুথ করুণারত্নে’র অসাধারণ দ্বি-শতক সত্ত্বেও বৃষ্টিবিঘ্নিত ও মন্দালোকের কবলে পড়া খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০২২-২৩ মৌসুমে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৭ মার্চ, ২০২৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। ৬ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, হেনরি নিকোলসের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৫৮ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, উসমান খাজা’র অসাধারণ দ্বি-শতরানের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৪২ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

সম্পৃক্ত পোস্ট