|

গ্রাহাম রূপ

১২ জুলাই, ১৯৪৬ তারিখে হ্যাম্পশায়ারের ফেয়ারহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, স্লিপ অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ওয়েলসের পর্থকলভিত্তিক সেন্ট জোন্স স্কুলে পাঁচ বছর পড়াশুনো করেন। এরপর, বার্কশায়ারভিত্তিক ব্রাডফিল্ড কলেজ থেকে স্নাতকধারী হন। ১৭ বছর বয়সে বার্কশায়ারের পক্ষে ক্রিকেট খেলতে থাকেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৮৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে ও দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মাইনর কাউন্টিজ ও বার্কশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৬৪ সাল থেকে সারের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। ১৯৭৩ মৌসুমে ৪৪.৩৫ গড়ে ১৬৪১ রান তুলে সারের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, ৫৯ ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মে, ১৯৭৬ সালে লর্ডসে এমসিসি’র সদস্যরূপে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান একাদশের বিপক্ষে খেলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

১৯৭৩ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্ট ও আটটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে টনি লুইসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের ব্যাটসম্যানরূপে ভারত গমন করেন। কাউন্টি ক্রিকেটে অভিষেকের প্রায় নয় বছর পর ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে কানপুরে অজিত ওয়াড়েকরের নেতৃত্বাধীন স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। জ্যাক বার্কেনশ’য়ের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে একমাত্র ইনিংস থেকে ১১ রান তুলেন। ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে জিওফ আর্নল্ডের বল থেকে চেতন চৌহানের ক্যাচ তালুবন্দী করে প্রথম ক্যাচ মুঠোয় পুড়েন। ঐ খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

বোম্বের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেন। এবার তিনি ১০ রান তুলেছিলেন। এ খেলাটিও ড্রয়ে পরিণত হয় ও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে পরাজিত হয়। এরপর, দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রথম দুইটিতে খেলেন। শুরুতে নিচেরদিকে নামলেও পরবর্তীতে মাঝারিসারিতে স্বীয় স্থান পাকাপোক্ত করেন।

১৯৭৭ সালে নিজ দেশে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ আগস্ট, ১৯৭৭ তারিখে লন্ডনের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরুর পূর্বে এটি সর্বশেষ টেস্ট ছিল। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ৩৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। এ মৌসুমে জিওফ বয়কটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৮ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৭ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে রিচার্ড হ্যাডলি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টে নিউজিল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে পরাভূত করেছিল। ৭২ রানে জয়লাভ করে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৭৮ সালে নিজ দেশে মার্ক বার্জেসের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জুলাই, ১৯৭৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ১৪ ও ১০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ডেভিড গাওয়ারের অসাধারণ শতকের বদৌলতে সফরকারী ৭ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

দৃশ্যতঃ এক পর্যায়ে তাঁকে তাঁর সময়কালের অন্যতম সেরা স্লিপ ফিল্ডার হিসেবে বিবেচনায় আনা হয়েছিল। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে চিত্রিত হয়েছিলেন। সারের পক্ষে রানের ফল্গুধারা প্রবাহিত করলেও ইংল্যান্ডের পক্ষে তা থেকে বেশ দূরে ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তিনবার পাণিগ্রহণ করেছেন। তন্মধ্যে, মৃত্যুকালীন রুথ নাম্নী স্ত্রী, এক পুত্র ও দুই কন্যাকে রেখে যান। ২৬ নভেম্বর, ২০০৬ তারিখে গ্রেনাডায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ও ৬০ বছর ১৩৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট