১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯১৯ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার নর্থ অ্যাডিলেডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, সাংবাদিক, প্রশাসক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে আসতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯৫০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘ফ্রিজ’ ডাকনামে ভূষিত গিল ল্যাংলি ১.৭৩ মিটার উচ্চতা ও ৬৭ কেজি ওজনের অধিকারী ছিলেন। অ্যাডিলেডভিত্তিক স্টার্ট ক্লাবের স্বতঃস্ফূর্তভাবে রান সংগ্রহের কারণে প্রথমবারের মতো সকলের নজর কাড়েন। এ সময়ে ভিক রিচার্ডসনের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে, টেস্টে নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৫১ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২৬ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৯ নভেম্বর, ১৯৫১ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ফ্রাঙ্ক ওরেলের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি স্ট্যাম্পিং ও তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ৩০ নভেম্বর, ১৯৫১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। ৭ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২২ ডিসেম্বর, ১৯৫১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ পূর্বতন ১৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৫ ও ২৩ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৬ উইকেটে জয় পেলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৫১ তারিখ থেকে শুরু হওয়া মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০* ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। নাটকীয়ভাবে ১ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫২ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৭ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। ৯৬ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৪ জানুয়ারি, ১৯৫৩ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫৩ সালে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। ২৫ জুন, ১৯৫৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৫৫ সালে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। এপ্রিল, ১৯৫৫ সালে ব্রিজটাউনে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একমাত্র অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন।

১১ এপ্রিল, ১৯৫৫ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২৬ এপ্রিল, ১৯৫৫ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১১ জুন, ১৯৫৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ না পেলেও উইকেটের পিছনে অবস্থান করে আটটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৮২ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৫৬ সালে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৭ জুন, ১৯৫৬ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে একবার ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। তবে, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ২১ জুন, ১৯৫৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও আটটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। সর্বমোট নয়টি ডিসমিসাল করেন। তাঁর এ কীর্তিগাঁথা পরবর্তী ৪৪ বছর পর্যন্ত অস্ট্রেলীয় রেকর্ড হিসেবে চিত্রিত হয়েছিল। ১৮৫ রানে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৩ আগস্ট, ১৯৫৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ব্রায়ান স্ট্যাদামের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও,  উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ভারত সফরে যান। ২ নভেম্বর, ১৯৫৬ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। ৯৪ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলেও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। স্টার্ট ও এসেনডনের পক্ষে খেলেছেন। স্টার্টের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। তবে, ক্রিকেটার হিসেবেই অধিক পরিচিতি লাভ করেন। শেষ জীবনে ক্লাবের লন বোলার হিসেবে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ইলেকট্রিশিয়ান ও সাংবাদিকতার সাথে জড়িত ছিলেন। এক পর্যায়ে রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। আনলি নির্বাচনী এলাকা থেকে ২০ বছর সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সংসদে লেবার দলের সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৭৭ থেকে ১০৭৯ সময়কালে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার আইনসভায় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৯ সময়কালে সাউথ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট প্রশাসনে যুক্ত ছিলেন।

দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। বেশ কয়েক বছর স্মৃতিভ্রম রোগে আক্রান্ত ছিলেন। অতঃপর ১৪ মে, ২০০১ তারিখে অ্যাডিলেডের ফুলার্টনভিত্তিক নার্সিং হোমে ৮১ বছর ২৪২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট