২১ আগস্ট, ১৯০৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
নিজের সময়কালে অন্যতম সহজাত প্রতিভার অধিকারী শৌখিন ব্যাটসম্যানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। এমসিসি ও সারে কর্তৃপক্ষ – উভয়ের কাছেই সর্বাপেক্ষা অমূল্য সদস্যে পরিণত হয়েছিলেন। ১৯২৪ থেকে ১৯৫৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় দলের পক্ষে খেলেছেন।
তিন অংশে বিভক্ত গৌরবান্বিত ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ম্যালভার্নে থাকাকালীন চমৎকার বিদ্যালয় ক্রিকেটারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অক্সফোর্ডের অসাধারণ খেলোয়াড় ছিলেন। তবে, ব্যবসায়িক দায়বদ্ধতার কারণে সাত বছর খেলার জগৎ থেকে দূরে ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ফিরে আসলে সারে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন।
১৯৩৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অনেকাংশে জোরপূর্বক পুণরায় সারের দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে হয়। এরপর, ১৯৪৭ ও ১৯৪৮ সালে আরও দুই মৌসুম খেলেন। নিজের সেরা দিনগুলোয় দৃষ্টিনন্দন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতেন ও ক্ষীপ্রগতিতে ফাস্ট বোলিং করতেন। ব্যাট হাতে বোলারদের উপর চড়াও হতেন ও হাল ছেড়ে দিতেন না। মূলতঃ অফ-সাইডে শট খেলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। পুরো মাত্রায় ড্রাইভ মারতেন ও পিছনের পায়ে ভর রেখে কভার অঞ্চলে ফেলতেন। বলকে অন-সাইডে নিয়ে আসতেন। বিশেষত সামনের পায়ে ভর রেখে এ কাজটি করতেন। তরুণ বয়সে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে বেশ দ্রুততার সাথে প্রকৃত মানসম্পন্ন বোলিং করতেন। পরবর্তীতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলারে পরিণত হন ও কার্যকর পরিবর্তিত বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
১৯৩৫ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র পাঁচ টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৮ জানুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জিম স্মিথ, জর্জ পেইন, জ্যাক ইডন ও এরিক হোলিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ৬ সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ৪ উইকেটে জয় পেলে তাঁর দল চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে সমতা বিরাজ করে।
এরপর, ১৪ মার্চ, ১৯৩৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৬১ রানে জয়লাভ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯৩৫ সালে নিজ দেশে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৯ জুন, ১৯৩৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১০ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০ লাভ করেন। ১৫৭ রানে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৬ আগস্ট, ১৯৬০ তারিখে লন্ডনের মেরিলেবোন এলাকার হাসপাতালে হৃদযন্ত্র ক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৫৪ বছর ৩৬১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তুলনামূলকভাবে অল্প বয়সে দেহাবসানের ফলে ক্রিকেট জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
