ড্যান লরেন্স

১২ জুলাই, ১৯৯৭ তারিখে এসেক্সের হুইপস ক্রস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করে থাকেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ট্রিনিটি ক্যাথলিক হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। সহজাত প্রতিভার অধিকারী ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ২২ বছর বয়সে ইংল্যান্ড লায়ন্সের সদস্যরূপে ‘এ’ দলের সফরে অস্ট্রেলিয়া গমন করে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ৯৮.৬০ গড়ে দুই শতক সহযোগে ৪৯৮ রান সংগ্রহসহ ২৩ গড়ে ১১ উইকেট দখল করেছিলেন। ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে বার্নহামের (১৪৮) সাথে রেকর্ডসংখ্যক রান সংগ্রহে অংশ নেন। ফিজির বিপক্ষে খেলায় দ্বিতীয় উইকেটে তাঁরা ৩০৩ রান তুলে দলের ২৯৯ রানের বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। ১৭৪ রানের চমৎকার ইনিংস খেলা ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এরফলে, ২০০৪ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের বিজে ওয়াটলিং ও ব্রাড উইলসনের ২৭৩ রানের রেকর্ড ম্লান হয়ে পড়ে।

২০১৫ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ব্রিসবেন হিট, ডেকান চার্জার্স, লন্ডন স্পিরিট, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব ও কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৯ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে চেমসফোর্ডে এসেক্স বনাম কেন্টের মধ্যকার খেলায় তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়। ১৭ বছর ২৯০ দিন বয়সে নিজস্ব প্রথম প্রথম-শ্রেণীর শতক হাঁকান। কিয়া ওভালে এসেক্সের পক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় ১৬১ রান তুলেছিলেন। এরফলে, কাউন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসের তৃতীয় কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে এ সফলতা পান। এরপর থেকেই দলটির পক্ষে তিন স্তরের ক্রিকেটের সবকটিতেই অংশ নিচ্ছেন।

২০১৬ ও ২০১৭ সালেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন। ২০ বছর বয়সে এসে ইংরেজ ক্রিকেটে অন্যতম সেরা প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হন। তিন শতক সহযোগে ৪৪.৭৮ গড়ে ৭৬১ রান তুলেন। ২৫ বছরের মধ্যে ক্লাবের প্রথম চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এরফলে, ২০১৭ সালে ক্রিকেট রাইটার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে বর্ষসেরা তরুণ ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড লায়ন্সের পক্ষে প্রথমবারের মতো অংশ নেন ও অস্ট্রেলিয়া এবং ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে লায়ন্সের প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশোগ্রহণের জন্যে মনোনীত হন।

২০১৯ সালের টি২০ ব্লাস্টে এসেক্সের শিরোপা বিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তাদের দুইটি সাম্প্রতিক কাউন্টি শিরোপা লাভের সাথে যুক্ত ছিলেন। হান্ড্রেডের উদ্বোধনী আসরে লন্ডন স্পিরিটের অন্যতম স্থানীয় তারকা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন।

২০২১ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ২০২০-২১ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১৪ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দূর্দান্ত অর্ধ-শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ৭৩ ও ২১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলীয় অধিনায়কের অসামান্য কৃতিত্বে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ৪ মার্চ, ২০২১ তারিখে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৬ ও ৫০ রান সংগ্রহ করেন। ঋষভ পন্তের অসাধারণ শতকে ইনিংস ও ২৫ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০২১-২২ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ২৪ মার্চ, ২০২২ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ০ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জশুয়া ডা সিলভা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০২৬ সালে নিজ দেশে সালমান আগা’র নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৫ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অল-রাউন্ড কৃতিত্বে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাভূত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।