১৮ আগস্ট, ১৯৮৩ তারিখে ভিক্টোরিয়া বেয়ার্নসডেল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

‘হুইটি’ কিংবা ‘বিয়ার’ ডাকনামে ভূষিত ক্যামেরন হোয়াইট ৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৭ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৮-১৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ার ও সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, ডেকান চার্জার্স, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, মেলবোর্ন স্টার্স, মেলবোর্ন রেনেগাডেস ও অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের পক্ষে খেলেছেন। ভিক্টোরিয়ার ১৫২ বছরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ২০০৭ সালে সমারসেটের ক্যাপ লাভ করেন। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ে সফরের জন্যে মনোনীত হলেও সফরটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়।

২০০৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট, ৯১টি ওডিআই ও ৪৭টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। সবগুলো টেস্টই ভারতের বিপক্ষে খেলেছেন। ৫ অক্টোবর, ২০০৫ তারিখে মেলবোর্নের ডকল্যান্ডস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আইসিসি বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

২০০৮-০৯ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। এ সিরিজে পাঁচ উইকেট দখল করেছিলেন। ৯ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৩৯ ও ১/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ ও ১৮* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জহির খানের আপ্রাণ প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ১৭ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৭১ ও ১/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৫ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক এমএস ধোনি’র অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২০ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৬ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিদায়ী টেস্টে ৪৬ ও ২৬ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৪ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জেসন ক্রেজা’র অনবদ্য বোলিং সত্ত্বেও স্বাগতিক দল ১৭২ রানে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ওডিআই ও টি২০আইয়ে অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১০-১১ মৌসুমে টি২০আইয়ে দলের অধিনায়কত্ব করেন। তবে, ছন্দহীনতার কবলে পড়লে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নেন ও জর্জ বেইলি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। ২৬ জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআই খেলেন। ৯ মে, ২০১৯ তারিখে ভিক্টোরিয়া থেকে অব্যাহতি দান করলে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তির দিকে অগ্রসর হন। বিবিএলের শিরোপাধারী মেলবোর্ন রেনেগাডেসের সাথে নতুন চুক্তির প্রস্তাবনা না পাবার কারণে ১৭ মে, ২০১৯ তারিখে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের পক্ষে খেলার জন্যে চু্ক্তিবদ্ধ হন। ২১ আগস্ট, ২০২০ তারিখে পেশাদারী পর্যায়ের খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটানোর কথা ঘোষণা করেন ও কোচিং জগতে প্রবেশের কথা জানান। প্রিমিয়ার ক্রিকেটে মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়কের দায়িত্বে রয়েছেন।

সব মিলিয়ে দশটি ঘরোয়া আসরের শিরোপা জয় করেছেন। ছয়বার শেফিল্ড শীল্ড, একবার ঘরোয়া ওয়ান-ডে কাপ, দুইবার টি২০ লীগ ও বিবিএলের অষ্টম আসরে ট্রফি জয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। অবসর গ্রহণকালীন ভিক্টোরিয়ার ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বকালের পঞ্চম সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। শেফিল্ড শীল্ডে তাঁর ৭৭ খেলায় অধিনায়কের রেকর্ডের চেয়ে কেবলমাত্র দুইজন খেলোয়াড় এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়াও, জেমি সিডন্সের সর্বকালের ১৮৯ ক্যাচ তালুবন্দীর রেকর্ডের চয়ে মাত্র পাঁচ ক্যাচ কম নিয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। জাকুই মরিস নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট