২৩ জুন, ১৯৩২ তারিখে লোয়ার হাটের পেটোনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে ওয়েলিংটনের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। সব মিলিয়ে দলটির পক্ষে ১৫.১৬ গড়ে ৩৩০ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুমের প্লাঙ্কেট শীল্ডে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। পাঁচ খেলা থেকে মাত্র ৯.৪৭ গড়ে ৪৬ উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, দুইবার নয়-উইকেট লাভ করেছিলেন। তাসত্ত্বেও, ঐ মৌসুমের পূর্বে নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পাননি।

১৯৫৩ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে সফলতার স্বর্ণশিখরে আরোহণ করলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। মূলতঃ দূর্বল দল হিসেবে পরিচিত ব্ল্যাক ক্যাপসের পক্ষে খেলার কারণেই তিনি নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। অংশগ্রহণকৃত ১৯ টেস্টের ১৩টিতেই তাঁর দল পরাজিত হয় ও কোন টেস্টেই নিউজিল্যান্ড দল জয় পায়নি। সব মিলিয়ে ৩৫.২৩ গড়ে ৪৩ উইকেট পেয়েছিলেন। নিজের শেষ খেলায় ব্যক্তিগত সেরা ৪/৮৫ লাভ করেছিলেন।

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৬ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। টেড মিউলি, লরি মিলার ও এরিক ফিশারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ৬* রান সংগ্রহসহ ৪/৯৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮০ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে জিওফ রাবোনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। দুই দলের মধ্যকার প্রথম টেস্ট সিরিজে অংশ নেন। এ সফরে তাঁর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। টেস্ট চলাকালীন টাঙ্গিয়াই রেল দূর্ঘটনায় বাগদত্তার নিহত হবার সংবাদ পান। এ অবস্থায় আবারও যে তিনি মাঠে নামবেন, তা কেউই প্রত্যাশা করেননি। বার্ট সাটক্লিফের সাথে যোগ দেন। শেষ উইকেট জুটিতে ৩৩ রান তুলেন। ৬ রান সংগ্রহ করে হিউ টেফিল্ডের বলে স্ট্যাম্পড হন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৫০ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারী দল ১৩২ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। তবে, হার না মানার মানসিকতা নিয়ে দর্শকদের মন জয় করে। তেইশ সহস্রাধিক দর্শক দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিজ দেশে ডেনিস অ্যাটকিনসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৯৮। খেলায় তিনি ৪/৯০ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭১ রানে পরাভূত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫৮ সালে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জুলাই, ১৯৫৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১৩ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

ব্যাটিংয়ে মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। তিনবার পেয়ার লাভ করেন ও অংশগ্রহণকৃত ৩৪ ইনিংস থেকে কেবলমাত্র দুইবার দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাসত্ত্বেও, ওয়েলিংটনে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৬৪ রান তুলে একমাত্র অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ মার্চ, ১৯৬৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২২ রান অতিক্রম করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৬৪* ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/৮১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৪৭ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে নিজ দেশে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৩ মার্চ, ১৯৬৪ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৯০। খেলায় তিনি ৪/৮৫ ও ৩/৫৭ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। পাশাপাশি, টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার নিষেধাজ্ঞার কবলের পূর্বে এটিই নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সর্বশেষ খেলা ছিল।

২০১১ সালে বব ব্লেয়ার ও বাগদত্তা নেরিসা লাভের মর্মান্তিক ভালোবাসাকে ঘিরে টেলিভিশনে চলচ্চিত্রায়ণ করা হয়। ১৪ আগস্ট, ২০১১ তারিখে প্রথমবারের মতো প্রচার করা হয়। এছাড়াও, ডিভিডিতে মুক্তি দেয়া হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট