২৮ ডিসেম্বর, ১৯২০ তারিখে ত্রিনিদাদের সেন্ট জেমসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
স্থানীয় ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে খেলতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯৫২ সালে আন্তঃঔপনিবেশিক খেলায় ব্রিটিশ গায়ানার বিপক্ষে দারুণ খেলে সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। উপর্যুপরী খেলাগুলোয় ১০৩, ১২৮ ও ৮৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
১৯৫৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ১৫.৫০ গড়ে রান পেয়েছিলেন। ১৯৫৭ সালে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। উভয় টেস্টই তিনি স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলেছেন। ২০ জুন, ১৯৫৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। রোহন কানহাইয়ের সাথে ইনিংস উদ্বোধনে নামলেও অভিষেক ইনিংসে ফ্রেড ট্রুম্যানের বলে শূন্য রানে এলবিডব্লিউতে বিদেয় নেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে জনি ওয়ারডলের বলে ট্রুম্যানের তালুবন্দী হবার পূর্বে ২৬ রান তুলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৬ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২২ আগস্ট, ১৯৫৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। এ টেস্টে ফ্রাঙ্ক ওরেলের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ২৯ রান তুলেন। এরপর, রোহন কানহাইয়ের সাথে আবারও ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ৭ রানে বিদেয় হন। উভয় ইনিংসেই টনি লকের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ২৩৭ রানে পরাজিত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এ সফরে ২৯.৭৩ গড়ে ১০১১ রান তুলেছিলেন।
আর কোন টেস্ট খেলার সুযোগ না পেলেও সব মিলিয়ে ২০ বছরের অধিক সময় নিয়ে ৫০টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। কোন মৌসুমেই তিনের অধিক প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিতে পারেননি। ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে এনফিল্ডের পক্ষে খেলেছিলেন।
শেষের বছরগুলোয় ত্রিনিদাদ ক্রিকেট কাউন্সিলের সাউথ ম্যানেজম্যান্ট কমিটিতে কাজ করেন। ১৯৮৩ সালের ত্রিনিদাদ ও টোবাগো শেল শীল্ডের দলগুলোর ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও, ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৬ সময়কালে সফররত অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংরেজ দলের সংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
১৯৯৫ সালে খেলাধূলায় অনবদ্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ত্রিনিদাদ ও টোবাগো হামিং বার্ড মেডেল সিলভার লাভ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। সিলভিয়া নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। নোবেল, জেফ্রি, হারম্যান, গ্রিগরি, ডন, ডিন গার্সিয়া ও লিলেথ খান নাম্নী সন্তানের জনক। ৫ নভেম্বর, ২০০৬ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে ৮৫ বছর ৩১২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাবার প্রাক্কালে আকস্মিকভাবে পড়ে যান ও মাথায় চোট পান। দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয় ও সেখানেই তাঁর জীবনাবসান ঘটে। ত্রিনিদাদের ট্রিনিটি ক্যাথেড্রালে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর মৃত্যুর অব্যবহিত পরই নিকটতম বন্ধু ও সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যান অ্যান্ডি গ্যান্টিউম হাসপাতালে চলে আসেন ও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।
