৫ আগস্ট, ১৯৬১ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। দর্শনীয় শারীরিক গঠনের অধিকারী ছিলেন। শক্ত মজবুত গড়ন নিয়ে বেশকিছু দূর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। ব্যাট হাতে সপাটে স্ট্রাইক করতেন। এছাড়াও চমৎকার মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন।
১৯৮৩ থেকে ১৯৯৪ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ৩৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার তৃতীয় আসরে অংশ নেন। ৯ জুন, ১৯৮৩ তারিখে সোয়ানসীতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা অবশ্য সুখকর হয়নি। একদিনের আন্তর্জাতিকের অভিষেকে শূন্য রানে তাঁকে বিদেয় নিতে হয়েছিল।
টেস্ট ক্রিকেটেও একই ধাঁচে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৯৮৮ সালে রঞ্জন মাদুগালে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফর যান। ২৫ আগস্ট, ১৯৮৮ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। রঞ্জিত মাদুরাসিংহের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নমূখী হতে হয়। অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসে দর্শনীয় ৫৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এ পর্যায়ে বেশ কয়েকটি বাউন্ডারি মেরেছিলেন। খেলায় দুই উইকেট লাভ ও দুই ক্যাচ তালুবন্দী করে প্রতিশ্রুতিশীল অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন। তবে, রবি রত্নায়েকে’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পায়।
প্রায়শঃই বোলারদের উপর দাপট দেখিয়ে দৃশ্যতঃ উইকেট প্রভূত্বকালীন বিদেয় নেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে সর্বোচ্চ বিনোদনের প্রয়াস চালান। তবে, দলে তাঁকে কখনো স্থায়ীভাবে খেলতে দেখা যায়। বাংলাদেশে পেশাদারী ক্রিকেট বেঁছে নেয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদেয় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
১৯৯১-৯২ মৌসুমে অরবিন্দ ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১ তারিখে শিয়ালকোটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ১৯ ও ৬ রান সংগ্রহ করেন। তবে, সেলিম মালিকের ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
