২২ সেপ্টেম্বর, ১৯০২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
বোম্বেভিত্তিক কারিমভয় মিলসের নিয়ন্ত্রণাধীন সাতটি টেক্সটাইল কারখানার স্বত্ত্বাধিকারীর সন্তান ছিলেন। সেন্ট জাভিয়ার্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনে ছয় ফুটের অধিক উচ্চতা ও প্রায় ৮৫ কেজির অধিকারী ছিলেন। কৈশোরেই তাঁর প্রতিভা সবিশেষ লক্ষ্যণীয় পর্যায়ের ছিল। স্লিপ অঞ্চলে দণ্ডায়মান থাকতেন। জনশ্রুতি রয়েছে যে, দর্শকদের প্রিয়পাত্র ছিলেন। বেশ সাহসের সাথে উইকেটে প্রতিবন্ধকতাকালীন ‘কোলা, কোলা …’ শব্দ শোনা যেতো। বোলার কিংবা পিচের অবস্থার দিকে কর্ণপাত না করেই ছক্কা হাঁকাতেন; স্বচ্ছতা ও স্বাচ্ছ্যন্দের সাথে বলে আঘাত করে প্রভূত্ব দেখাতেন।
১৯২২-২৩ মৌসুম থেকে ১৯৪১-৪২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বে, নয়ানগর, পার্সিজ ও ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। বোম্বে কোয়াড্রাঙ্গুলার প্রতিযোগিতায় ইউরোপিয়ান্সের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নয় ও ৩২ রান তুলেছিলেন। ১৯২৬-২৭ মৌসুমে ইউরোপিয়ান্স ও পার্সিজের বিপক্ষে ৫১ রানের নিখুঁত ইনিংস খেলেন। ১৯২৮-২৯ মৌসুমের কোয়াড্রাঙ্গুলারে হিন্দু দলের বিপক্ষে ৯৮ ও ৬৮ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুমের মঈন-উদ-দৌলা কাপে ফ্রিলুটার্সের পক্ষে খেলেন। আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি পাস্ট এন্ড প্রেজেন্টের বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৯ রান তুলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এটিই তাঁর প্রথম শতক ছিল। ১৯৩২ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে প্রস্তুতিমূলক খেলার জন্যে মনোনীত হন। লধা রামজী, জাহাঙ্গীর খান ও সি.কে. নায়ড়ুসমৃদ্ধ দলের বিপক্ষে ৬১ রান তুলে শীর্ষ রান সংগ্রাহক হন।
বোম্বে পেন্টাগুলার প্রতিযোগিতায় পার্সিজের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া ও নয়ানগরের সদস্যরূপে রঞ্জী ট্রফিতে খেলেন। ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে প্রায় একাকী গুজরাতের বিপক্ষে দলকে জয় এনে দেন। ব্যক্তিগত সেরা ১৮৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে ৩১৮ রানে নিয়ে যান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। উভয় ইনিংসেই তিনি দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন।
এরপর তিনি নয়ানগরে চলে যান। দলকে ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফির শিরোপা বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। নয়ানগরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। ঐ মৌসুমে ৪৮ গড়ে ৩৮৪ রান তুলেন। ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়ার বিপক্ষে উভয় ইনিংসে ৫৭ ও ১৩৬ তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এরপর, বাংলা দলের বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেন। মুবারক আলী’র সাথে ৯০ ও শেষ উইকেটে রাজ কুমার যদুবেন্দ্রসিংজী’র সাথে ৯৬ মিনিটে ১৩৩ রান যুক্ত করেন। সব মিলিয়ে ২০ বছর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের সাথে যুক্ত ছিলেন। ছয় শতক সহযোগে ২৯.০৮ গড়ে ৩৫৭৮ রান পেয়েছেন।
সময়ের সাথে সাথে তাঁর খেলায় ছন্দপতন ঘটতে থাকে। নয়ানগরের রঞ্জী ট্রফির শিরোপা বিজয়ের পর থেকে তিনি আর কোন অর্ধ-শতকের সন্ধান পাননি। ১৯৪১-৪২ মৌসুমে খেলা থেকে অবসর নেন।
১৯৩২ থেকে ১৯৩৩ সময়কালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ভারতের সর্বপ্রথম টেস্টে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৯৩২ সালে সি.কে. নায়ড়ু’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ব্যাটিংয়ের তুলনায় ফিল্ডার হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল অসাধারণ পর্যায়ের। তাঁর ফিল্ডিং সকলেরই নজর কেড়েছিল।
ইংরেজ পরিবেশের সাথে একাত্মতা পোষণে তাঁকে কিছুটা সময় ব্যয় করতে হয়েছিল। তবে, নর্দাম্পটনশায়ার ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে উপর্যুপরী খেলাগুলোয় যথাক্রমে ৬৩ ও ৯৬ তুলে ছন্দ ফিরে পান। একমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার পূর্বে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৪৪ ও ৩৮ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ২৫ জুন, ১৯৩২ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। দলের অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মোহাম্মদ নিসারের কল্যাণে স্বাগতিক দলের সংগ্রহ ১৯/৩ হলেও উত্তরণ ঘটিয়ে ২৫৯ রান তুলে। এর জবাবে ভারত দল ১৮৯ রানে গুটিয়ে যায়। বিল ভোসের বলে ওয়াল্টার রবিন্সের কটে পরিণত হবার পূর্বে ২২ রান তুলেছিলেন। ডগলাস জার্ডিনের দলটি ভারতকে ৩৪৬ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা এনে দেয়। ১৫৮ রানে দল পরাজিত হয়। চতুর্থ ইনিংসে তিনি ব্যর্থ ছিলেন। বিল ভোসের বলে ৪ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। এছাড়াও, তিনি জাহাঙ্গীর খানের বলে ফ্রাঙ্ক ওলি ও নাওমল জিওমলের বলে ফ্রেডি ব্রাউনের ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ১৫৮ রানে জয়লাভ করেছিল।
ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ভারতীয় একাদশ ২০৪ রানে গুটিয়ে গেলেও তিনি একাই ১২২ রান তুলেছিলেন। গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৯৪ রান সংগ্রহ করেন। ঐ সফরে ২৫ গড়ে ৯০০ রান পান।
অমর সিংয়ের সাথে সুন্দর সম্পর্ক থাকলেও ভারতীয় অধিনায়ক সি.কে. নায়ড়ু’র সাথে তাঁর সম্পর্ক তেমন স্বাভাবিক ছিল না। ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, ঐ সফর থেকে ফেরার পথে তাঁরা বাদানুবাদে লিপ্ত হয়েছিলেন। গুঞ্জন রয়েছে যে, জাহাজ থেকে দলপতিকে ফেলে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। অনেক বছর পর তালিয়ারখানকে বলেছিলেন যে, ‘এ ধরনের আচরণ তিনি আদৌ করেননি। তবে, যা করেছেন তা হচ্ছে ছেলেমীসুলভ আচরণ।’
দেশে ফিরে মঈন-উদ-দৌলা কাপে ফ্রিলুটার্সের পক্ষে নিজের সেরা খেলা উপহার দিতে থাকেন। সেমি-ফাইনালে রাওয়ালপিন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের বিপক্ষে ৬১ ও করাচীর বিপক্ষে ১২৬ রান তুলেন। এছাড়াও, বোম্বের বিপক্ষে ৩৩ রান তুলে দলের বিপর্যয় রক্ষা করেন। ফলশ্রুতিতে, নিজ দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ভারতের প্রথম টেস্টে তাঁকে দলে রাখা হয়।
১৫ ডিসেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে বোম্বেতে অনুষ্ঠিত টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৪৮/৫ থাকা অবস্থায় মাঠে নামেন। দৃঢ়চিত্তে খেলে ৩১ রান তুলে শেষ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠ ত্যাগ করেন। এ পর্যায়ে দল প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৯ রান তুলতে সক্ষম হয়। মরিস নিকোলসের বলে কট-বিহাইন্ড হন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর টেস্টে সর্বোচ্চ সংগ্রহে পরিণত হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় উইকেটে লালা অমরনাথ ও সি.কে. নায়ড়ু ১৮৬ রানের জুটি গড়লেও উপর্যুপরী দ্রুত তিন উইকেটের পতন ঘটলে ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটে। ১২ রান তুলে মরিস নিকোলসের বলে পুণরায় বিদেয় হন ও ভারত দল ২৫৮ রান তুলতে সমর্থ হয়। শেষ আট উইকেট ৫১ রানে হারায়। ৯ উইকেটে সফরকারী দল জয়লাভ করে। এরপর আর তাঁকে কোন টেস্টে রাখা হয়নি।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের অধিকারী ছিলেন। তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, অংশগ্রহণকৃত ৭৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ৫১ ক্যাচ মুঠোয় পুড়ে অসাধারণত্বের পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি মানসম্পন্ন স্ট্রোক খেলায় পারদর্শী ছিলেন। চাতুর্য্যতাবিহীন খেলোয়াড় হিসেবে আক্রমণাত্মক ও দৃষ্টিনন্দন স্ট্রোক খেলতেন।
খেলোয়াড়ী জীবনেই নয়ানগরে কর্মরত ছিলেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত সেখানে বসবাস করেন। স্নাতকধারী ছিলেন। এছাড়াও, ইম্পারিয়াল ব্যাংকে জুনিয়র অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে, আহমেদাবাদভিত্তিক অ্যাসোসিয়েটেড সিমেন্ট কোম্পানীজে কাজ করেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি সুস্থ জীবন অতিবাহিত করতে পারেননি। প্রচণ্ডভাবে ধূমপানে আসক্ত ছিলেন। ক্রিকেট থেকে চলে আসার পর পরবর্তী দিনগুলোয় তাঁর ওজন ১০০ কেজির অধিক হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর সন্তান মাঞ্চি কোলা ক্রিকেট খেলতেন। তাঁর ভ্রাতা ন্যাভাল কোলা বোম্বে পেন্টাগুলারে পার্সিজের পক্ষে খেলেছেন। হৃদযন্ত্র ক্রীয়ায় আক্রান্ত হন ও এক সপ্তাহ পর নিজস্ব ৪৮তম জন্মদিনের ১১ দিন পূর্বে আহমেদাবাদে ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৫০ তারিখে অনেকটা অকালেই তাঁর দেহাবসান ঘটে।
