২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের পন্টেফ্রাক্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘ব্রেজি ল্যাড’ কিংবা ‘ব্রেজ’ ডাকনামে পরিচিত টিম ব্রেসনান ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী। ক্যাসলফোর্ড হাই স্কুলে অধ্যয়ন শেষে পন্টেফ্রাক্ট নিউ কলেজে পড়াশুনো করেছেন। জিসিএসই’র আটটি স্তর সম্পন্ন করেন। ২০০১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব ও পার্থ স্কর্চার্সের পক্ষে খেলেছেন।
১০ জুন, ২০০১ তারিখে হেডিংলি কার্নেগিতে অনুষ্ঠিত ইয়র্কশায়ার বনাম কেন্টের মধ্যকার সানডে লীগে অংশ নেয়ার মাধ্যমে কাউন্টিতে অভিষেক ঘটে। প্রায় দুই বছর পর ১৪ মে, ২০০৩ তারিখে নর্দাম্পটনে একই দলের সদস্যরূপে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
হেডিংলি কার্নেগিতে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে ৯১ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন। পরের মৌসুমের শুরুতে কাউন্টি চ্যাম্পিয়ন নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে এমসিসি’র সদস্যরূপে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯৪ রান তুলেন। তবে, প্রথমবারের মতো তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শের জন্যে তাঁকে খুব বেশী সময় নিতে হয়নি।
২০০৭ মৌসুম শুরু হবার পূর্বেই ২২ বছর বয়সে পদার্পণ করলেও ইতোমধ্যে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে বেশ কয়েকটি বছর কাটিয়েছেন। ২০০১ সালে হেডিংলিতে সানডে লীগের খেলায় কেন্টের বিপক্ষে প্রথম একাদশের পক্ষে প্রথম খেলেন। এ পর্যায়ে ১৬ বছর ১০২ দিন বয়স নিয়ে কাউন্টির প্রতিনিধিত্ব করার সুবাদে পল জার্ভিসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের রেকর্ড নিজের করে নেন। ব্যাট ও বল হাতে নিয়ে বিশ্বস্ত অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে থাকেন। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা চিন্তায় এনে ইংল্যান্ড ‘এ’ দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয় ও বাংলাদেশ সফরে যান।
২০০৬ থেকে ২০১৫ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৩ টেস্ট, ৮৫টি ওডিআই ও ৩৪টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৭ জুন, ২০০৬ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। এর পূর্বে ১৫ জুন, ২০০৬ তারিখে সাউদাম্পটনে একই দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি২০আইয়ে অংশ নেন। কিন্তু পিঠের আঘাতের কবলে পড়লে ঐ মৌসুমের অধিকাংশ সময়ই মাঠের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন।
২০০৯ সালে নিজ দেশে ক্রিস গেইলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৬ মে, ২০০৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। গ্রাহাম অনিয়ন্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। স্বপ্নিল এ টেস্টে স্বাগতিক দল চার বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার ক্রিকেটের স্বর্গভূমিতে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। গ্রায়েম সোয়ানের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৪ মে, ২০০৯ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৩৫ ও ৩/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ না পেলেও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জেমস অ্যান্ডারসনের অসাধারণ বোলিং দাপটে সফরকারীরা ইনিংস ও ৮৩ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০০৯-১০ মৌসুমে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ১২ মার্চ, ২০১০ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের কোন ইনিংসে ব্যাট হাতে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও বল হাতে নিয়ে ১/৭২ ও ৩/৬৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। গ্রায়েম সোয়ানের অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৮১ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১০ সালে নিজ দেশে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৭ মে, ২০১০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৭৬ ও ৩/৯৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্টিভেন ফিনের বোলিং দাপটে ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০১২ সালে নিজ দেশে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৭ জুন, ২০১২ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ না পেলেও বল হাতে নিয়ে ৩/১১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১৩-১৪ মৌসুমে অ্যালাস্টেয়ার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/২৪ ও ০/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মিচেল জনসনের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
৩১ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখে ২৯ বছরের খেলোয়াড়ী জীবন শেষে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।
