|

মিল্টন স্মল

১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে বার্বাডোসের ব্লেডস পয়েন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দূর্ভাগ্যবশতঃ ফাস্ট বোলারদের রাজত্বকালীন তাঁর আবির্ভাব ঘটেছিল। কিছুটা জড়তা থাকলেও ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বলকে সুইং করাতে পারতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। জানুয়ারি, ১৯৮৪ সালে বার্বাডোসের সদস্যরূপে ত্রিনিদাদের বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। খেলায় সব মিলিয়ে আট উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে ৫/৫৭ পেয়েছিলেন। শেল শীল্ডের পরবর্তী তিন খেলায় আহামড়ি ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে না পারলেও দল নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত হন।

১৯৮৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও সমসংখ্যক ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ওডিআইগুলো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে নিজ দেশে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৪ তারিখে অ্যালবিওনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একই সফরের ১৬ মার্চ, ১৯৮৪ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। উইনস্টন ডেভিসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। জোয়েল গার্নার, ওয়েন ড্যানিয়েল ও ম্যালকম মার্শালকে পাশ কাটিয়ে দ্বিতীয় পরিবর্তিত বোলার ছিলেন। ০/২৪ ও ১/৫১ লাভ করেন। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি। অ্যালান বর্ডারের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

অনেকটা বিস্ময়করভাবে ১৯৮৪ সালে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে তাঁকে ইংল্যান্ড গমনার্থে দলে রাখা হয়। ২৮ জুন, ১৯৮৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। মাইকেল হোল্ডিংয়ের আঘাতের কারণে খেলার সুযোগ পান। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩/৪১ পান। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ০/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, গর্ডন গ্রীনিজের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

কিন্তু, হাঁটুর আঘাতের কারণে সফরের শুরুরদিকে তাঁকে দেশে ফেরৎ পাঠানো হয়। এরফলে, পরবর্তী মৌসুমের প্রায় সব খেলা থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। এছাড়াও, আঘাত ও দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে প্রায় চার বছর বার্বাডোস দলের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন। কিন্তু, ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে অধিকাংশ খেলায় অংশ নিয়ে ২২.০৫ গড়ে ২০ উইকেট দখল করেন। এ পর্যায়ে খেলায় ফিরে ত্রিনিদাদের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৬/৫৫ পান। তবে, আবারও ছন্দহীনতার কবলে পড়েন ও দল থেকে বাদ পড়েন। ১৯৯০-৯১ মৌসুমে আরও একটি খেলায় অংশ নেন। এ পর্যায়ে ১২৭ রান খরচায় কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। এরপর, খেলার জগৎ থেকে দূরে সড়ে যান।

সম্পৃক্ত পোস্ট