|

ব্রুস ডুল্যান্ড

১ নভেম্বর, ১৯২৩ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার কাউয়ানডিলা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৪০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে শেষদিকের অন্যতম সেরা লেগ-স্পিনার হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ডানহাতে ক্রমাগত লেগ-ব্রেক ও গুগলি বোলিং করে খেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। ইংরেজ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের প্রথম দুই মৌসুমে ৩৬৮ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৪৭ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সব মিলিয়ে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৪৬ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে নিজ দেশে লেন হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৯৪৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪/৬৯ ও ১/৮৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে নিজ দেশে লালা অমরনাথের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ২১* ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিক দল ২৩৩ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৪৮ সালে ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন ‘অপরাজেয় দলের’ সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করা থেকে বঞ্চিত হন। শেফিল্ড শীল্ডের অংশগ্রহণকারী অনেকের ন্যায় তিনিও লীগ ক্রিকেট খেলতে ইংল্যান্ড গমন করেন। নটিংহ্যামশায়ার কর্তৃপক্ষ তাঁর মাঝে সম্ভাব্যতা খুঁজে পান। দুই বছর আবাসকালীন শর্তাবলী পূরণ করে চ্যাম্পিয়নশীপ ক্রিকেটে অংশ নেন। প্রথম বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দিয়ে দলের ভিত্তি আনয়ণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দলের ৩৯৮ নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হন।

১৯৫৩ সালে নটসের পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। ঐ মৌসুম শেষে ইংল্যান্ডের যে-কোন বোলারের তুলনায় এগিয়ে থেকে ১৭২ উইকেট দখল করেন। ঐ সময়ে ডন ব্র্যাডম্যানের বিজয়ের তাণ্ডবের পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া দল খেলতে আসে ও এবার ইংল্যান্ড দল অ্যাশেজ জয় করে। তিনি দলে প্রবেশের অপেক্ষা ছিলেন। তবে, অস্ট্রেলীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী কোন কাউন্টি খেলোয়াড়কে দলে যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

নিজস্ব দ্বিতীয় মৌসুমে সব মিলিয়ে ১৯৬ উইকেট দখল করেন। আবারও তিনি যে-কোন বোলারের চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখেন। তন্মধ্যে, নটসের পক্ষে ১৮১ উইকেট পেয়েছিলেন। নতুন রেকর্ড দাঁড় করান ও অদ্যাবধি অক্ষত রয়েছে। ঐ গ্রীষ্মে তিনি ১২৮৭ ওভার বোলিং করেছিলেন। এছাড়াও, সহস্রাধিক রানের সন্ধান পান। ফলশ্রুতিতে, ১৯৫৫ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। দুইবার লর্ডসে প্লেয়ার্সের সদস্যরূপে জেন্টলম্যানের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন।

ক্রিকেটের বাইরে বেসবলে পারদর্শী ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। অ্যালেক্স ডুলান নামীয় সন্তান অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছে। ৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বেডফোর্ড পার্ক এলাকায় আকস্মিকভাবে ৫৬ বছর ৩১২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট