৩১ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার ডেমেরারার ক্যাম্পবেলভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। তবে, দলে কখনো নিজেকে নিয়মিত খেলোয়াড়ের পর্যায়ে উপনীত করতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৭৮ থেকে ১৯৮৩ সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্ট ও ২৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন দূর্বলতর অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৫ এপ্রিল, ১৯৭৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৯ ও ৭ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১৩৮ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২৮ এপ্রিল, ১৯৭৮ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ২১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৭০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯৮০-এর দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আনন্দদায়ক কিন্তু স্বল্পস্থায়ী খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। বিভিন্ন মাঠে ১৯ টেস্টে অংশ নিলেও উল্লেখযোগ্য সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। তবে, ভারতের মাটিতেই ব্যাটিংয়ে অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। চারটি অর্ধ-শতাধিক রানের তিনটি পেয়েছিলেন ভারতের বিপক্ষে। স্মর্তব্য যে, প্রত্যেক টেস্টই ভিন্ন ভিন্ন মাঠে খেলেছিলেন।

১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে আলভিন কালীচরণের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ভারত ও শ্রীলঙ্কা গমনার্থে যুক্ত হন। ১২ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ৪ রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয় পেয়ে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

অত্যন্ত মানসম্পন্ন ভারতীয় স্পিন বোলিং আক্রমণ প্রতিহত করে ড্র হওয়া কানপুর টেস্টে ২৫০ রান তুলেন। ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের ঐ টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ও একমাত্র শতরানের সন্ধান পান। হয়তোবা আরও অধিক রান তুলতে পারতেন, যদি না পিছলে গিয়ে শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাঘবনের বলে হিট উইকেটে বিদেয় না নিতেন। ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে অনুষ্ঠিত সিরিজের চূড়ান্ত ও সর্বশেষ টেস্টটিতে ৪৩টি চারের মারে সাড়ে আট ঘণ্টা সময় নিয়ে ঐ রান তুলেছিলেন। মাত্র ছয় রানের জন্যে ভারতের বিপক্ষে রোহন কানহাইয়ের গড়া সর্বোচ্চ রান থেকে দূরে ছিলেন। এরফলে, ১৯৩৪ সালে ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলীয় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান বিল পন্সফোর্ডের বিদায়ী টেস্টে ২৬৬ রানে হিট উইকেটে বিদেয় নেয়ার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে একইভাবে বিদেয় নিয়েছিলেন। আরও একবার একই সিরিজে শতকের কাছাকাছি পর্যায়ে অবস্থান করেছিলেন। ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত ঐ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৯৬ রানে তাঁকে বিদেয় নিতে হয়েছিল। তবে, টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।

আগ্রাসী ভূমিকায় ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাটিংয়ে তাঁর খেলার ধরন গড়ে উঠেছিল। ফলশ্রুতিতে, তাঁর খেলায় ধারাবাহিকতার ছাঁপ লক্ষ্য করা যায়নি। অংশগ্রহণকৃত টেস্টের ৩০ ইনিংসের সাতটিতেই শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। স্বল্পসংখ্যক ক্রিকেটারদের অন্যতম হিসেবে টেস্টে আড়াইশত রান তোলা সত্ত্বেও ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ২৬। এক পর্যায়ে গর্ডন গ্রীনিজডেসমন্ড হেইন্সকে দৃশ্যতঃ তাঁর প্রভাবে দল থেকে বাদ পড়ার সমূহ ক্ষেত্র তৈরী হয়েছিল।

১৯৮০ সালে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৫ জুন, ১৯৮০ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩০ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অ্যান্ডি রবার্টসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা নাটকীয়ভাবে ২ উইকেটে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৭ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১১ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯৮০-৮১ মৌসুমে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮০ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৫ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে দলের সংগ্রহ ২৯/১ ও ব্যক্তিগত ১৩ রানে থাকাকালীন আঘাতের কবলে পড়ে রিটায়ার হার্ট হন। পরবর্তীতে, ১৭১/৬ হলে পুণরায় মাঠে নামেন। স্বাগতিকরা ১৫৬ রানে পরাজয়বরণ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৮১-৮২ মৌসুমে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩০ জানুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ২৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। উভয় ক্ষেত্রেই লেন পাস্কো’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। অ্যালান বর্ডারের অসাধারণ ব্যাটিং দাপট সত্ত্বেও সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষমতা দেখায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে গায়ানা এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বর্ডার ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অধিকতর সেরা খেলা উপহার দিয়েছিলেন ও অধিক শতক হাঁকান। ক্ষুদ্রতর সংস্করণের ক্রিকেটের উপযোগী ছিলেন ও এ ধরনের ক্রিকেটে বেশ ভালো খেলেছিলেন। প্রায়শঃই খেলায় কার্যকর প্রভাব ফেলতেন। ১৯৮২ সালে শেল শীল্ডে ৮১.৫০ গড়ে ৩২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পরের বছর আবারও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গায়ানাকে প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্যরূপে অংশ নেন। ঐ বছরের শেষদিকে জিম্বাবুয়ে সফরে ইয়ং ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। তবে, এ দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করেন। ঐ বছরই তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্বিতীয় সফরে বিদ্রোহী দলের সদস্যরূপে গমন করেন। ফলশ্রুতিতে, তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে স্থবিরতা নিয়ে আসে। সেখানে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে একদিনের খেলায় মধ্যাহ্ন বিরতির পূর্বে দ্রুতলয়ে শতক হাঁকিয়ে স্বীয় প্রতিভার বহঃপ্রকাশ ঘটান। এরপর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে অবস্থানকালে ৪০-এর কোটায় এসেও আন্তর্জাতিক খেলায় অংশ নেন। ১৫ বছর খেলার জগৎ থেকে দূরে থাকার পর ৪৩ বছর বয়সে আইসিসি ট্রফি প্রতিযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট