১৪ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের কিডসগ্রোভ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘হিগসি’ ডাকনামে পরিচিতি পাওয়া কেন হিগস ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার ও লিচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, স্টাফোর্ডশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৮৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। মনেপ্রাণে বোলিং করতেন ও ল্যাঙ্কাশায়ারের অন্যতম সেরা বোলার ছিলেন। অসম্ভব নিখুঁততা বজায় রাখতেন এবং সুইং ও কাটে দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। ৪৫ ডিগ্রী কৌণিকতা নিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে বোলিং ভঙ্গীমা প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন।
ফ্রেড ট্রুম্যান কিংবা জন স্নো’র ন্যায় সুদর্শন না হলেও ল্যাঙ্কাশায়ারের তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছেন। সচরাচর ব্রায়ান স্ট্যাদামের উপস্থিতিতে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন ম্লান হয়ে পড়ে। টেস্টে ওভারপ্রতি ২.১৪ রান খরচ করলেও ব্রায়ান স্ট্যাদাম ২.৩৩ রান খরচ করেছিলেন। ৪৯ বছর বয়সে সর্বশেষ ক্রিকেট খেলেন।
১৯৬৫ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে ১৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৫ সালে নিজ দেশে পিটার ফন ডার মারউই’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৬ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সিরিজে সমতা আনার প্রত্যয়ে নেমে ব্রায়ান স্ট্যাদাম ও ডেভিড ব্রাউনের পর প্রথম পরিবর্তিত বোলার হিসেবে বোলিং করতে নামেন। ৪/৪৭ পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪/৯৬ পেলেও খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৪৭। খেলায় তিনি ৩/৫১ ও ৪/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬৬ সালে নিজ দেশে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ জুন, ১৯৬৬ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৯৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৪০ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৬ জুন, ১৯৬৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৬/৯১ ও ২/৮২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পূর্বের টেস্ট জয়ের সুবাদে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৩০ জুন, ১৯৬৬ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৭১ ও ৩/১০৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৩৯ রানে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৪ আগস্ট, ১৯৬৬ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪৯ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। উভয় ইনিংসেই গ্যারি সোবার্সের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৯৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৫ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে যায়।
একই সফরের ১৮ আগস্ট, ১৯৬৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৬৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫২ ও ১/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৪ রানে জয় পেলেও ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৬৭ সালে নিজ দেশে মনসুর আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ জুন, ১৯৬৭ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/১৯ ও ১/৭১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করালেও কোন ইনিংসেই ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৬৭ সালে নিজ দেশে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১০ আগস্ট, ১৯৬৭ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৪/৩৫ ও ২/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৬৮ সালে নিজ দেশে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৬ জুন, ১৯৬৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৮০ ও ০/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৫৯ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে দুইবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান ও ২০.৭৪ গড়ে ৭১ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, ৫৬টি উইকেট সপ্তম কিংবা এর উপরের স্তরের ব্যাটসম্যানদের ছিল। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৩.৬১ গড়ে ১৫৩৬ উইকেট, ৫৪২৪ রান ও ২৩০ ক্যাচ তালুবন্দী করেন।
ইংরেজ ক্রিকেটে তাঁর সীমিত অংশগ্রহণের বিষয়টি ধূয়াশাই রয়ে গেছে। কলিন ব্যাটম্যান তাঁর ‘ইফ দ্য ক্যাপ ফিটসে’ উল্লেখ করেছেন যে, অপরিসীম উজ্জ্বীবনী শক্তির অধিকারী চমৎকার মিডিয়াম-ফাস্ট বোলার ছিলেন। তবে, আকস্মিকভাবে ১৯৬৮ সালের অ্যাশেজ সিরিজে একটি টেস্টে অংশ নেয়ার পর দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টির অগোচরে চলে যান।’
জীবনের শেষদিনগুলোয় লিচেস্টারশায়ার ও নটিংহ্যামশায়ারের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় একাদশের খেলাগুলোয় আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। মেরি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। প্যাট ও টেরি নামীয় পুত্রদ্বয়ের জনক ছিলেন। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে ৭৯ বছর ২৩৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
