৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
প্রকৃত মানসম্পন্ন ফাস্ট-মিডিয়াম সিমার। বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দল মাউন্টেনিয়ার্সের পক্ষে বেশ সজীব ভঙ্গীমায় বোলিং উদ্বোধন করে থাকেন। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা হ্যামিল্টন মাসাকাদজা’র পদাঙ্ক অনুসরণে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। হারারের শহরতলী এলাকা হাইফিল্ডে জন্মগ্রহণ করেন। এমবিজি প্রাইমারি স্কুলে অধ্যয়নকালীন প্রথমবারের মতো ক্রিকেটে সাথে পরিচয় ঘটে। এক পর্যায়ে টাকাশিঙ্গা ক্রিকেট ক্লাবের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন।
২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ইস্টার্নস ও মাউন্টেনিয়ার্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৭ এপ্রিল, ২০০৮ তারিখে মুতারেতে অনুষ্ঠিত নর্দার্নস বনাম ইস্টার্নসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে বিকশিত করতে সচেষ্ট হন। লোগান কাপের চার খেলায় অংশ নিয়ে বিস্ময়সূচক ১১.৯৫ গড়ে ২১ উইকেট দখল করেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এ ধারা বহমান রাখেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে ২৪ উইকেট ও ২০০৯-১০ মৌসুমে ৪০ উইকেট লাভ করেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।
২০১০ থেকে ২০১৪ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট, ১৬টি ওডিআই ও সাতটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনার্থে জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ৪ মার্চ, ২০১০ তারিখে প্রভিডেন্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। প্রথম ওভারেই ১৪ রান খরচ করে ফেলেন। তাসত্ত্বেও, শেষের ওভারগুলোয় দ্রুতলয়ে তিন উইকেটের সন্ধান পান ও দলকে নাটকীয়ভাবে দুই রানের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
দুই বছর পর টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ২০১১-১২ মৌসুমে ব্রেন্ডন টেলরের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৬ জানুয়ারি, ২০১২ তারিখে নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ফরস্টার মুতিজা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, অভিষেক পর্বটি একেবারেই সুবিধের হয়নি। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩* ও ২১ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১০২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ক্রিস মার্টিনের বোলিং দাপটে সফরকারীরা ইনিংস ও ৩০১ রানের বিশালে ব্যবধানে পরাভূত হয়।
২০১৪-১৫ মৌসুমে ব্রেন্ডন টেলরের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ১২ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ২/৭৭ ও ০/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মমিনুল হকের শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১৮৬ রানে পরাভূত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবেও যথেষ্ট কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজের নামের পার্শ্বে একটি শতরান যুক্ত করেছেন। সীমানা বরাবর ফিল্ডিং করে দ্রুততার সাথে বলকে কাঙ্খিত স্থানে প্রেরণের গুণাবলী রয়েছে।
২০১৮ সালের গ্রীষ্মকালে কাম্ব্রিয়ায় ডাল্টন সিসি’র পক্ষে লীগ খেলার জন্যে মনোনীত হন। প্রথম মৌসুমেই ২৮.২৪ গড়ে ৫৯৩ রান তুলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেন ৭৮ রান। বল হাতে নিয়ে ১৮.৫৫ গড়ে ৫৩ উইকেট দখল করেন। ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৬/৩৫ দাঁড় করান।
২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে ফিরে যান। ইসিবি নর্থ ইয়র্কশায়ার সাউথ ডারহাম প্রিমিয়ার লীগে স্টোকস্লে সিসি’র পক্ষে খেলেন। আবারও নিজের খেলা প্রদর্শনে সোচ্চার হন। ২১.৩৬ গড়ে ৪৭০ রান ও ২০.৯৮ গড়ে ৪৬ উইকেট লাভ করেন।
ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণের পূর্বে পেশাদারী পর্যায়ে ফুটবল খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।
