|

উইলিয়াম হোয়াইসল

৩১ অক্টোবর, ১৮৮৭ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের উডবোরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

উডবোরায় জন্মগ্রহণ করলেও জীবনের অধিকাংশ সময়ই ম্যান্সফিল্ড এলাকায় বসবাস করেছিলেন। ‘ডজার’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯০৯ ও ১৯১০ সালে নটিংহ্যামশায়ারের দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, শেষ মৌসুমটিতে ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত খেলায় স্টাফোর্ডশায়ারের বিপক্ষে ১৪০ ও ৩৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে সংশ্লিষ্ট সকলের নজর কাড়েন।

১৯১০ থেকে ১৯৩০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ব্যাটিং, বোলিংয়ের পাশাপাশি কাউন্টির পক্ষে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দলের ৩০৪তম খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হন। ১৮ আগস্ট, ১৯১০ তারিখে ব্ল্যাকওয়েলে অনুষ্ঠিত নটিংহ্যামশায়ার বনাম ডার্বিশায়ারের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। জর্জ গানের সাথে ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ৫০ রান তুলেন। তন্মধ্যে, প্রথম উইকেটে তাঁরা ১০০ রানের জুটি গড়েন। খেলোয়াড়ী জীবনে এ দু’জন ৪০বার শতরানের জুটি গড়েছিলেন। ধীরলয়ে খেলোয়াড়ী জীবনের উত্তরণ ঘটিয়েছেন। ১৯১০-১১ মৌসুমে সাতটিমাত্র প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছেন। এ পর্যায়ে অবশ্য তাঁর পা ভেঙ্গে গিয়েছিল। ১৯১২ সালে মাত্র দুই খেলায় অংশ নেন। ১৯১৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত নটিংহ্যামশায়ারের নিয়মিত খেলোয়াড়ের মর্যাদা পাননি।

২৬ জুন, ১৯২৪ তারিখে মৌসুমের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এরফলে, ১৯২৪-২৫ মৌসুমে এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমনের জন্যে মনোনীত হন।

১৯২৬ থেকে ১৯৩০ সালে ক্রমাগত পাঁচ মৌসুমে দলের অপর যে-কোন ব্যাটসম্যানের চেয়ে অধিকতর রান তুলেছেন। তন্মধ্যে, ১৯২৯ সালে এক মৌসুমে ২৬২০ রান তুলে সর্বাধিক রান সংগ্রহের রেকর্ড গড়ে অদ্যাবধি অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও, ১৯২৮ সালে নয়টি শতক হাঁকিয়ে কাউন্টি রেকর্ড গড়েন। ঐ রেকর্ড দুটো ভেঙ্গে ফেলতে পারতেন।

তবে, ১৯৩০ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে খেলায় অংশ নিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের যবনিকাপাত ঘটে। ঐ মৌসুমে উপর্যুপরী ইনিংস থেকে চারটি শতক হাঁকান। দুইবার খেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন। ১৯২৯ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে এসেক্সের বিপক্ষে ১১১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। একই বছর ক্যান্টারবারিতে কেন্টের বিপক্ষে অপরাজিত ১০৯ রান তুলেছিলেন।

১৯২৫ থেকে ১৯৩০ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষক হিসেবে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিলেও ইংল্যান্ডের পক্ষে এ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাননি। ১৯২৪-২৫ মৌসুমে আর্থার জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৬ জানুয়ারি, ১৯২৫ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৯ ও ৭৫ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১১ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৩০ সালে নিজ দেশে বিল উডফুলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৬ আগস্ট, ১৯৩০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ৩৯ রানে স্বাগতিকরা পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

ঐ খেলার কয়েক সপ্তাহ পর গুরুতর আঘাতের কবলে পড়েন। নৃত্যরত অবস্থায় পিছলে পড়ে যান। কঁনুইয়ে গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হন, রক্ত দূষিত হয়ে পড়ে ও এক পর্যায়ে রক্তক্ষরণ ঘটতে থাকে। অতঃপর, ১১ নভেম্বর, ১৯৩০ তারিখে মাত্র ৪৩ বছর ১১ দিন বয়সে নটিংহামের হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। ম্যান্সফিল্ডে তাঁর বড় ধরনের শবানুষ্ঠান সম্পন্ন হয় ও সমাধিক্ষেত্রে সমাহিত করা হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট