১৫ মার্চ, ১৯৪৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের মোসম্যান এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘দ্য ফক্স’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। মিডিয়াম-ফাস্ট বোলার হিসেবে ব্যতিক্রমীপন্থায় দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৫ বছর বয়সে মোসম্যানের পক্ষে প্রথম স্তরের ক্রিকেট খেলার জন্যে মনোনীত হন। বালমেইনের বিপক্ষে ঐ খেলায় হ্যাট্রিক করেছিলেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুম থেকে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৯ সালে এনএসডব্লিউ’র পক্ষে অভিষেক ঘটে তাঁর। সব মিলিয়ে দলটির পক্ষে একটিমাত্র শতরানের সন্ধান পেয়েছিলেন। এছাড়াও, চারবার রাজ্য দলের অধিনায়কত্ব করেন।
১৯৭২ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সব মিলিয়ে তিনটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সবগুলো আন্তর্জাতিক খেলাই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মোকাবেলা করেন। তবে, সামগ্রীকভাবে উল্লেখযোগ্য তেমন সফলতার সন্ধান পাননি। কেবলমাত্র ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে ৫৪ রানের মূল্যবান রান সংগ্রহ করেন। ঐ সফরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তিনি ৩২ উইকেট পেয়েছিলেন।
অনেকটা বিস্ময়করভাবে ১৯৭২ সালের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমনে যান। ৮ জুন, ১৯৭২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্রুস ফ্রান্সিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১ ও ৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জন স্নো’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৮৩ ও ১/৬৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮৯ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২২ জুন, ১৯৭২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪২ ও ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ খেলায় তাঁর দল ৮ উইকেটে জয় পায় ও ১-১ ব্যবধানে সিরিজে সমতা আনে।
একই সফরের ১৩ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৮ ও ০/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দুই শতাধিক উইকেট ও দুই সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছেন। ১৯৮৩ সালের পূর্ব পর্যন্ত মোসম্যানের সাথে প্রথম স্তরের ক্রিকেট খেলা চলমান রাখেন। দলটির পক্ষে ছয় শতাধিক উইকেট ও ছয় হাজারের অধিক রান তুলে মোসম্যানের সর্বকালের শীর্ষ পাঁচজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে চিত্রিত করেন।
ক্রিকেটের পাশাপাশি বেসবলে দক্ষ ছিলেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে এনএসডব্লিউ বেসবল দলের সদস্য ছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের টেলিভিশন ও বেতারে ক্রিকেট ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এছাড়াও, নিজস্ব বিপণন ও বিজ্ঞাপন সংস্থা পরিচালনা করছেন।
