২৪ নভেম্বর, ১৯৭৫ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সপ্তম রাজা এডওয়ার্ড ও র‌্যান্ড আফ্রিকান্স ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গটেং, লায়ন্স ও নর্দার্নস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেট, ডারহাম ও হ্যাম্পশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, ২০১০ সালে হ্যাম্পশায়ারের ক্যাপ লাভের অধিকারী হন। এছাড়াও, বার্বাডোস ট্রাইডেন্টসের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ৫৮ টেস্ট, ৬৪টি ওডিআই ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২ ফেব্রুয়ারি, ২০০০ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

২০০০ সালে শন পোলকের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২০ জুলাই, ২০০০ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১১ ও ২৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মুত্তিয়া মুরালিধরনের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৫ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন। ১৭ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে ব্লুমফন্তেইনে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ২৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। ৫৫ ও ১৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জ্যাক ক্যালিসমাখায়া এনটিনি’র অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৩০ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে টেস্টে ৫৬ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। এছাড়াও, এ পর্যায়ে টেস্টে প্রথম শতক হাঁকান। ব্যাট হাতে নিয়ে ১২০ ও ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়ী হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

একই মৌসুমে নিজ দেশে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২০ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের প্রথম দিন শন পোলকের (১১১) সাথে ৮ম উইকেটে ১৫০ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নতুন রেকর্ড দাঁড় করান। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১০৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়ক শন পোলকের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০০১-০২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে শন পোলকের নেতৃত্বে স্প্রিংবকের অন্যতম সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০০১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের দ্বিতীয় দিন জ্যাক ক্যালিসকে সাথে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ১৯৯ রান তুলে দ্বি-পক্ষীয় রেকর্ড গড়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলের সর্বোচ্চ ৬০০/৩ রান তুলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের বীরোচিত ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ২৪ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি, বোলিং করেননি কিংবা ক্যাচ তালুবন্দী করেননি। অভিষেকধারী জ্যাক রুডল্ফের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৬০ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৩-০৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১০ মার্চ, ২০০৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১০ ও ৫২ রান সংগ্রহসহ ০/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেছিলেন। জ্যাক ক্যালিসের অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

হার্শেল গিবস খেলায় ছন্দ হারিয়ে ফেললে তিনি ২০০৮ সালে দলে ফিরে আসেন। ইনিংস উদ্বোধনে খেলেন ও সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন। গ্রায়েম স্মিথের সাথে উদ্বোধনী জুটিতে সুন্দর বোঝাপড়া করেন।

২০০৮ সালের গ্রীষ্মে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। লর্ডসে ড্র হওয়া ঐ টেস্টে ১৩৮ রান তুলে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। প্রথম ইনিংসে ৪০ রান তুলেন। দল ২৪৭ রান তুললে ফলো-অনের কবলে পড়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে গ্রায়েম স্মিথের সাথে ২০৪ রানের জুটি গড়েন। ১৬টি চারের মারে ৪৪৭ বল মোকাবেলায় ১৩৮ রান তুলেন। এরফলে, একই টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার চারজন ব্যাটসম্যানের অন্যতম হিসেবে লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে ঠাঁই করে নেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পঞ্চম দিনে সফরকারীরা ৩৯৩/৩ সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করলে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়।

২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৬ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে মাশরাফি মর্তুজা’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, অ্যাশওয়েল প্রিন্সের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে ইনিংস ও ৪৮ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

২০০৮ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে গ্রায়েম স্মিথকে সাথে নিয়ে ৪১৫ রান তুলেন। ঐ মৌসুমে তিনি ব্যক্তিগত সেরা ২২৬ রান তুলেন। এ বছর উত্তরোত্তর তাঁর খেলার উত্তরণ ঘটতে থাকে। এক পঞ্জিকাবর্ষে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ২০০৯ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। এরপূর্বে, ২০০১ সালে সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট অ্যানুয়েল বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে ঘোষিত হন।

ওডিআই দলে ফিরে আসলেও তা তেমন সুবিধাজনক ছিল না। ২০০৯ সালে দলে ফিরে আসার পর অস্ট্রেলিয়ায় হিমশিম খান ও একটিমাত্র অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। খুব শীঘ্রই তিনি দল থেকে বাদ পড়েন। বয়স তাঁর জন্যে বাঁধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়নি ও ২০০৯ সালে ছন্দহীনতার কবলে পড়েন। এরপর, কয়েকটি খেলায় দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করলে টেস্ট দলের বাইরে চলে যান। তবে, যখনই মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন, তখনই নিজেকে উজার করে মেলে ধরার প্রয়াস চালিয়েছেন।

২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৬ মার্চ, ২০০৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৩১ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ফিলিপ হিউজের অসাধারণ জোড়া শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১৭৫ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার হাই পারফরম্যান্সের ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে নিযুক্তি পান। এর পূর্বে ২১ আগস্ট, ২০২০ তারিখে পারিবারিক কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ থেকে অব্যাহতি নেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট