৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্নে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেট তারকা ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ করলেও পরবর্তীতে হংকংয়ে চলে যান। এরপর ইংল্যান্ডে অভিবাসিত হন। সারের দ্বিতীয় একাদশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৮৯ সালে দলটির পক্ষে প্রথম খেলেন। চার বছর পর ১৯৯৩ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপ খেলার জন্যে বড়দের দলে আহুত হন। পূর্বেকার বছর অবশ্য লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে তাঁকে দলে যুক্ত করা হয়েছিল।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। একদিনের খেলোয়াড় হিসেবেই মূলতঃ নিজেকে গড়ে তুলেন। সারের সৃজনশীল অধিনায়ক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। তাঁর অধিনায়কত্বে সারে দল কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্দ্রবিন্দুতে আরোহণ করে। চার বছরের মধ্যে তিনটি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা লাভ করে।
১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ৩৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ৩১ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
১৯৯৭ সালে নিজ দেশে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৭ আগস্ট, ১৯৯৭ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। কনিষ্ঠ ভ্রাতা বেন হলিউকের সাথে একযোগে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, বিংশ শতাব্দীতে দুই ভাইয়ের একযোগে টেস্ট অভিষেকে দ্বিতীয় ঘটনার সাথে নিজেদের জড়ান। বেন হলিউকের চেয়ে ছয় বছরের বড় হলেও তাঁর তুলনায় সহজাত প্রতিভায় পিছিয়ে ছিলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৫ ও ২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৪ ও ২/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইয়ান হিলি’র অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ২৬৪ রানে জয় পেয়ে সফরকারীরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, একই সফরের ২১ আগস্ট, ১৯৯৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ফিল টাফনেলের চমৎকার বোলিংশৈলীর কল্যাণে ১৯ রানে জয়লাভ করলেও স্বাগতিকরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
টেস্টে সীমিত অংশগ্রহণ হলেও ওডিআইয়ে অনেকগুলো খেলায় অংশ নেন। ১৪টি ওডিআইয়ে ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেন। তাঁর অধিনায়কত্বে ইংল্যান্ড দল ১৯৯৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেয়।
১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। তবে, প্রথম দিন বল বিপজ্জ্বনকভাবে লাফিয়ে উঠে ব্যাটসম্যানদেরকে আঘাতের কারণে ১০.১ ওভার শেষে ৫৬ মিনিট পর দলের সংগ্রহ ১৭/৩ থাকাকালে খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কার্ল হুপারের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। এক পর্যায়ে মার্শাল আর্টে যুক্ত হন। ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে ইংল্যান্ড দলের কোচিং কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়।
বৈশ্বিকভাবে ‘পরবর্তী ইয়ান বোথাম’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ২৪ বছর বয়সে মর্মান্তিকভাবে নিহত ও সতীর্থ ইংরেজ ক্রিকেটার বেন হলিউক সম্পর্কে তাঁর সহোদর হন। এক বছর পর ‘বেন হলিউক মেমোরিয়াল ফান্ড ফর চেজ’ নামীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
২০০৩ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা প্রাপ্ত হন। ২০০৪ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর পরিবার-পরিজন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করতে থাকেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। শেরিন নাম্নী এক রমণীর সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়েছেন।
