|

ন্যান্ড্রি বার্জার

১১ আগস্ট, ১৯৯৫ তারিখে গটেংয়ের ক্রুজার্সডর্প এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স, লায়ন্স, কেপ কোবরাজ ও গটেং দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেপটাউন ব্লিটজ, রাজস্থান রয়্যালস, জাফনা কিংস, নেলসন মান্ডেল বে জায়ান্টস, সাউথ ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টস ও জোবার্গ সুপার কিংসের পক্ষে খেলেছেন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ তারিখে অটশুর্নে অনুষ্ঠিত গটেং বনাম সাউথ ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। এ মৌসুমে তাঁর ক্রমাগত উত্তরণ ঘটতে থাকে। হাইভেল্ড লায়ন্সের পক্ষেও বেশ ভালো খেলেন। ২০১৭ সালে লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্বিতীয়সারির লিস্ট-এ প্রভিন্সিয়াল ওয়ান ডে কাপের ২০১৭-১৮ মৌসুমের প্রতিযোগিতায় বোলিং তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করেন।

২০১৮ সালে আফ্রিকা টি২০ কাপে গটেং দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন। এ বছরটি তাঁর জন্যে সোনায় সোহাগায় ভরপুর ছিল। প্রথমতঃ জুলাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এমার্জিং দলের সদস্যরূপে যুক্ত হন। এনরিখ নর্জে গোড়ালীর আঘাতে কাবু হয়ে পড়লে এমএসএলের ২০১৮ সালের আসরে তাঁকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। তিনি কেপটাউন ব্লিৎজের সদস্য হন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করলেও কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি, মার্কো জানসেন ও এনরিখ নর্জে’র ন্যায় দক্ষিণ আফ্রিকান পেস বোলারদের সাথে পেরে উঠছেন না। তবে, সৌভাগ্যবশতঃ ২০২৩ আসরের আইপিএল নিলামে তাঁর নাম চলে আসে। ভিত্তি মূল্যে তাঁকে রাজস্থান রয়্যালস কর্তৃপক্ষ খরিদ করে। ২০২৪ সালের আইপিএলের আসরে রাজস্থান রয়্যালসে যুক্ত হন। খুব শীঘ্রই নিজ দেশে আসা ভারত দলের বিপক্ষে ওডিআই ও টেস্ট দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

২০২৩-২৪ মৌসুমে নিজ দেশে রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখের বক্সিং ডেতে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডেভিড বেডিংহামের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে জসপ্রীত বুমরা’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ ৩/৫০ ও ৪/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করে দলের বিজয়ে অনন্য ভূমিকা রাখেন। ডিন এলগারের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩২ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এছাড়াও, ৩ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে কেপটাউনে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৩/৪২ ও ১/২৯ লাভ করলেও তাঁর দল ৭ উইকেটে পরাজিত হয়। ঐ সিরিজে ১৪.০০ গড়ে ১১ উইকেট দখল করেন। টেস্টে স্বীয় সক্ষমতা প্রদর্শন করেন। পেস ও সুইংয়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদেরকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন। এ সফরেই ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন।

২০২৪ সালে তেম্বা বাভুমা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ১৫ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। খেলায় তিনি ৩/৪৯ ও ০/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২৩ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, উইয়ান মুল্ডারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৪০ রানে জয়ী হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট