১৫ আগস্ট, ১৯৩৪ তারিখে জ্যামাইকার পোর্ট মারিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৬০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘রেজ’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে নিজ দেশের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। এর দুই মৌসুম পর লেন হাটনের নেতৃত্বাধীন সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে দুই খেলা থেকে আট উইকেট পেয়েছিলেন। জুলাই, ১৯৫৮ সালে বার্বাডোসের বিপক্ষে দুই খেলায় অংশ নিয়ে আরও ১৪ উইকেট পান।

১৯৬০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৬ জানুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। চেস্টার ওয়াটসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১/৪৬ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ৯ মার্চ, ১৯৬০ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০/২৪ ও ০/৬৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে ২৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

অ্যালান রস তাঁকে ‘বেডসার ধরনের স্পিনার’ হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন। কিন্তু, বল হাতে নিয়ে মাত্র দুই উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে খুব কমই সফল হয়েছিলেন। পরবর্তীতে এগুলোই তাঁর সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় পরিণত হয়। এরপর, ব্রিটেনে পেশাদারী পর্যায়ে খেলতে শুরু করেন। শুরুতে স্কটল্যান্ড ও পরবর্তীতে এক দশক ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে খেলেন।

১৯৬০ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এ পর্যায়ে খেলোয়াড়দের মান বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। ইংল্যান্ডে অভিবাসিত হন। সেখানে ১৫ বছর কোচের দায়িত্ব পালন করেন ও মাইনর লীগ ক্রিকেটে অংশ নিতেন। এরপর, ১৯৯৭ সালে নিজ দেশে ফিরে আসেন। জ্যামাইকা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের যুব উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে যুক্ত হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের প্রথম কোচিং পরিচালক হিসেবে নিযুক্তি পান। ড. রুডি ওয়েবস্টারের সহায়তা নিয়ে গ্রেনাডায় সেন্ট জর্জেস বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শেল ক্রিকেট একাডেমি গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ট্রিশ নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অতঃপর, ৮৫তম জন্মদিন উদযাপনের মাত্র একদিন পূর্বে ১৪ আগস্ট, ২০১৯ তারিখে ইংল্যান্ডে ৮৪ বছর ৩৬৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট