১৪ এপ্রিল, ১৯৬০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিম্বার্লী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দৈত্যাকৃতির শারীরিক গঠন ও ষাঁড়ের ন্যায় শক্তিধর হলেও তিনি ধীরলয়ে অফ-ব্রেক বোলার হিসেবে পরিচিতি ঘটান। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বলে স্পিন আনয়ণের চেয়ে ধূর্ততা ও বৈচিত্র্যতার দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। বলকে বাঁকা খাওয়ানোর চেয়ে নিখুঁতভাব বজায়ের দিকে নজর রাখতেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট ও নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৯৩ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ২০ টেস্ট ও ৮০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। বেশ বয়স নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৯৩ সালে কেপলার ওয়েসেলসের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৩৩ বছর বয়সে ২২ আগস্ট, ১৯৯৩ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একই সফরের ২৫ আগস্ট, ১৯৯৩ তারিখে মোরাতুয়ায় অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্লাইভ এক্সটিনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০/১০০ ও ৩/৭৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪৮ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৭ সালে পাকিস্তান সফরে অন্যতম সেরা ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হয়েছিলেন। ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ৮১ ও ৫০ রান সংগ্রহসহ শন পোলকের অপূর্ব বোলিংয়ের সাথে নিচেরসারিতে ভাঙ্গন ধরিয়ে দলকে ৫৩ রানের নাটকীয় জয় এনে দেন। প্রথম ইনিংসে দলের সংগ্রহ ৯৮/৭ থাকাকালে মাঠে নামেন। ১২৪ রানের জুটি দাঁড় করান। ৯৪ বল মোকাবেলায় ৮১ রান তুলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে চার নম্বর অবস্থানে নেমে ৫৫ রান তুলেন। এরপর, বল হাতে নিয়ে ৯.৩-৫-৮-৩ বোলিং বিশ্লেষণ করেন। এ খেলায় তিনি প্রথমবারের মতো ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩০ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৪ ও ২ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪০ ও ০/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

পরের মৌসুমে ফিরতি সফরে আবারও রুখে দাঁড়ান। ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ সালে জোহানেসবার্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫৭ বল মোকাবেলায় ১০৮ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন। পরবর্তীতে এটিই তাঁর একমাত্র শতকে পরিণত হয়। এরফলে, তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে দশ নম্বর অবস্থানে খেলে শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। দলের সংগ্রহ ১৬৬/৮ থাকাকালে ব্যাটিংয়ে নেমে দলের বিপর্যয় রোধে অগ্রসর হন। নবম উইকেটে মার্ক বাউচারের সাথে ১৯৫ রানের জুটি দাঁড় করান। এ পর্যায়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েন।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/১৭ ও ০/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জন্টি রোডসের ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর টেস্টে সর্বশেষ অংশগ্রহণ ছিল।

টেস্টগুলো থেকে ৩৭ উইকেট ও ৭৪১ রান সংগ্রহ করেছেন। ওডিআইয়ে প্রায়শঃই মারমুখী ভঙ্গীমায় শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯৬ সালে শারজায় ভারতের বিপক্ষে ৪৯ বল থেকে ৬১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্যকর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তবে, রাজ্য ক্রিকেটকে ঘিরে বিরূপ মন্তব্যের কারণে ২০০৬ সালে সুপারস্পোর্ট টিভির ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। গল্ফে আসক্ত। আবাসন শিল্পের সাথে জড়িত। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। আরপি সিমকক্স নামীয় সন্তানের জনক।

সম্পৃক্ত পোস্ট