১৭ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে কেপ প্রভিন্সের স্টেলেনবশ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ক্রিকেটের বাইরে ড্রাঙ্কেনস্টেইন কারাগারে প্রিজন ওয়ার্ডেন হিসেবে কাজ করতেন। পেসের পাশাপাশি বলকে উভয়দিক দিয়ে সুইং আনয়ণের গুণাবলী প্রথম ধরা পড়ে। এছাড়াও, পা বরাবর বল ফেলে রিভার্স সুইং করাতে পারতেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বোল্যান্ড, বর্ডার ও লায়ন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, কেন্ট, লিচেস্টারশায়ার ও সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেপ কোবরাজ, কলকাতা নাইট রাইডার্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দলের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছিলেন।

২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট, ৭৩টি ওডিআই ও নয়টিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৪ অক্টোবর, ২০০১ তারিখে কিম্বার্লীতে অনুষ্ঠিত সফররত কেনিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। অভিষেকে শীর্ষসারির দুই উইকেট পান। খেলায় নির্ধারিত ১০ ওভারে ২/৪৫ লাভ করেন। এরপর, একই দলের বিপক্ষে ৪/২১ লাভ করলে দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ১৫-সদস্যের অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে মনোনীত করে। এ প্রতিযোগিতায় একটিমাত্র খেলায় অংশ নিলেও পরবর্তী বছরগুলোয় ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন।

২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ২০০৫ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। ৫/৪৬ পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে কোন উইকেট পাননি। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জ্যাক ক্যালিসের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ১৯৬ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণে সক্ষমতা দেখায়।

একই মৌসুমে ক্যারিবিয়ান সিরিজে নিজের সেরা খেলা উপহার দেন। ২০০৫ সালে বার্বাডোসে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ওডিআইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অন্যতম সেরা মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। শেষ ওভারে হ্যাট্রিক করে স্বাগতিক দলের নিশ্চিত জয়কে এক রানের নাটকীয় পরাজয়বরণ করতে এগিয়ে আসেন। এরফলে, প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান বোলার হিসেবে ওডিআইয়ে হ্যাট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়াও, তৃতীয় দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্বের অধিকারী হন।

২০০৫-০৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ১/১০০ ও ৩/১১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ব্রেট লি’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ব্রাড হজের দূর্দান্ত প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২ জানুয়ারি, ২০০৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/১০৮ ও ১/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের জোড়া শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। এক পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং কোচ হিসেবে মনোনীত হন। ১০ এপ্রিল, ২০২২ তারিখে দলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক জুনায়েদ ওয়াদি’র সাথে গাড়ী দূর্ঘটনার কবলে পড়েন। তবে, উভয়ে তেমন আঘাত পাননি। এছাড়াও, আফগানিস্তানের বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট