৪ মে, ১৯৭০ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘হুইজ’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। কঠোর পরিশ্রমী অফ-স্পিনার ছিলেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে সাথে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের জয়ের অগ্রযাত্রায় বিরাট ভূমিকা রাখতেন। তবে, বলে বৈচিত্র্যতা আনয়ণে ব্যর্থ হবার ফলে দুই বছর পরই দলে আসা-যাবার পালায় থাকেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড, ক্যান্টারবারি ও ওতাগো এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৫ টেস্ট ও ১৫টি ওডিআইয়ে অংশ নেন। ২০ এপ্রিল, ১৯৯৮ তারিখে শারজায় ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। এরপর, ১৯৯৮ সালে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৭ মে, ১৯৯৮ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্ট অভিষেক পর্বকে দারুণভাবে স্মরণীয় করে রাখেন।
তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর পাঁচ উইকেটপ্রাপ্তি যে-কোন নিউজিল্যান্ডীয় বোলারের টেস্ট অভিষেকে তৃতীয় সেরার মর্যাদা পায়। এছাড়াও, ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে কলকাতায় স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে বিআর টেলরের ৫/৮৬ লাভের পর তাঁর সাফল্যটি সেরা ছিল। টেস্ট অভিষেকে ১৪৩ রান খরচায় ৭ উইকেট দখলের বিষয়টি নিউজিল্যান্ডের সেরা বোলিং সাফল্য হিসেবে চিত্রিত হয়ে আছে। এ পর্যায়ে তিনি ১৯৬১-৬২ মৌসুমে কেপটাউন টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এফজে ক্যামেরনের ৯২ রানে ৬ উইকেটপ্রাপ্তির বিষয়টি ম্লান হয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ২/৬১ ও ৫/৮২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান।
এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নেমে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ১৬৭ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে, টেস্টের ইতিহাসে নিউজিল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো উপর্যুপরী তিন টেস্ট জয় করতে সমর্থ হয়। এরপূর্বে দলটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই টেস্ট জয় করেছিল। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা দল নিজ দেশে একাধারে আট টেস্ট অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ে প্রথম পরাজয়বরণ করে।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। এ মৌসুমে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ২/৯০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, সায়মন ডৌলের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ম্যাথু সিনক্লেয়ারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১০৫ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ মার্চ, ২০০০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। এ পর্যায়ে দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। মাইকেল স্লেটারের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০০০-০১ মৌসুমে জিম্বাবুয়ের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। একই মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০০০ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ৫/৯০ ও ৩/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। মাতাবেলেল্যান্ড ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি জন মার্টিনের বিবেচনায় খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১০ মার্চ, ২০০৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৯ রান অতিক্রম করেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ০/৫৪ ও ২/৬৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জ্যাক ক্যালিসের অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এক পর্যায়ে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র যোগ্য সহচর হিসেবে চিত্রিত হন। তবে, পরবর্তীতে আর তা ধরে রাখতে পারেননি।
২০০৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে তাঁকে দলে রাখা হয়নি। তবে, ২০০৪-০৫ মৌসুমে বাংলাদেশ গমনার্থে তাঁকে পুণরায় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। এ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ১৯ অক্টোবর, ২০০৪ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে মোহাম্মদ রফিকের তৃতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ দলের প্রথম ইনিংসে ৭৯তম ওভারটি পাঁচ-বলে শেষ করেছিলেন। বল হাতে নিয়ে ০/৪২ ও ৩/৬৪ লাভ করেন। পাশাপাশি, দলের একমাত্র ইনিংসে ২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯৯ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ নভেম্বর, ২০০৪ তারিখে অ্যাডিলেড অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১১ ও ১৫* রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, ৩/১৪০ ও ১/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জাস্টিন ল্যাঙ্গারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা খেলায় ২১৩ রানে পরাজয়বরণসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
কিন্তু, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ায় উপর্যুপরী দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের খেসারত গুণতে হয়। দল থেকে বাদ পড়েন। ছন্দহীনতার কারণে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দলে আসা-যাবার পালায় থাকতেন। উপমহাদেশেই তিনি সফলতা পান। তবে, বিশ্বের অন্যত্র প্রায়শঃই মাঠের বাইরে অবস্থান করেন ও দলের প্রধান স্পিনার হিসেবে ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে অগ্রাধিকার দেয়া হতো।
এরপর, একই মৌসুমে নিজ দেশে ফিরতি সফরে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৮ মার্চ, ২০০৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অসাধারণ শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই মৌসুমে নিজ দেশে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১১ এপ্রিল, ২০০৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০/১২ ও ০/৭৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলের একমাত্র ইনিংসে ৩২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ল্যু ভিনসেন্টের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৮ রানে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পর ২০০৭ সালে ডারহামে যোগ দেন। ২০০৯ সালে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটিয়ে ক্যান্টারবারিতে কোচের দায়িত্ব নেন। এরপর নিউজিল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট কর্তৃক প্রতিভা চিহ্নিতকরণ ব্যবস্থাপক হিসেবে মনোনীত হন।
