২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের অ্যালবারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। উইকেট-রক্ষকের পাশাপাশি নিচেরসারির ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৭০-৭১ মৌসুমে সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে ক্লাবের খেলায় অংশগ্রহণকালীন সর্বপ্রথম চিত্রিত হন। তাঁর গ্লাভসকর্মে বিখ্যাত তারকা ক্রিকেটার অ্যালান নটের কাছ থেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পায়। স্তরভিত্তিক ক্রিকেট থেকে খুব শীঘ্রই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের দিকে নিয়ে যান। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে, ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে চমৎকার উইকেট-রক্ষক হিসেবে সুনাম কুড়ালেও বিভিন্ন কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।

১৯৭৭ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্ট ও ছয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে নিজ দেশে বিষেন বেদী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডেভিড অগিলভি, টনি মান, পল হিবার্ট, পিটার টুহি ও ওয়েন ক্লার্কের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৯ ও ৬ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ১৬ রানের ব্যবধানে নাটকীয় জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫০ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ২ উইকেটে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

তারকা ক্রিকেটার রড মার্শ অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে যোগ দেয়ার ফলে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে তাঁকে অগ্রসর হতে হয়। রড মার্শ দলে পুণরায় ফিরে আসলে তাঁকে আবারও ঘরোয়া আসরে ফিরে যেতে হয়। তবে, রড মার্শের অবসর গ্রহণের পর তিনি দলে ফিরে আসেন। কিন্তু, ঐ সময়ে অন্যান্য অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়ের ন্যায় তিনিও তৎকালীন নিষিদ্ধঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গেলে দৃশ্যতঃ তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটে। এরপর আর তাঁকে অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরিয়ে আনা হয়নি।

১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি স্ট্যাম্পিং ও সমসংখ্যক ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, বব হল্যান্ডের দূর্দান্ত বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৫ রানে জয় পেলেও ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড দলের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। এছাড়াও, নিউ সাউথ ওয়েলস, চেন্নাই সুপার কিংস ও সারে দলকে প্রশিক্ষণ দেন। জন বুকাননের পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়া দলের কোচের দায়িত্ব পালনে আগ্রহী থাকলেও টিম নিয়েলসনকে এ দায়িত্বে মনোনয়ন দেয়া হয়। ২০১১ সালের শেষদিকে মাইক ইয়ংয়ের পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পান। এছাড়াও, ২০১২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে অস্ট্রেলিয়া দলের অস্থায়ী কোচ হিসেবে ছিলেন। অস্ট্রেলীয় কোচ মিকি আর্থারের পরিবর্তে ওডিআই দলে কাজ করেন। এক পর্যায়ে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুই বছরের জন্যে পাকিস্তান দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ সালে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচের দায়িত্ব পান।

সম্পৃক্ত পোস্ট