৩০ জুলাই, ১৮৯২ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের চার্লটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯২০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘লিটল ডক’ ডাকনামে ভূষিত রয় পার্ক মাত্র ১.৬৫ মিটার উচ্চতার অধিকারী ও মাত্র ৫৬ কেজি ওজনের অধিকারী ছিলেন। তুলনান্তে তিনি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের এক-তৃতীয়াংশ ছিলেন। ১৯১২-১৩ মৌসুম থেকে ১৯২৪-২৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২০-এর দশকে ২৮ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয় ও দূর্ভাগ্যজনকভাবে ৩জন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে একটিমাত্র টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ১৯২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৮ বছর বয়সে ৩১ ডিসেম্বর, ১৯২০ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর অল্প পূর্বে চার্লি ম্যাকার্টনি গ্যাস্ট্রিটিসে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় চিকিৎসক হিসেবে তিনি খেলার সুযোগ পান।

প্রচলিত রয়েছে যে, স্ত্রী প্যাভিলিয়নে বসে পোষাক বুননে অগ্রসর হন ও পুরো টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন দেখা থেকে বঞ্চিত হন। এ পর্যায়ে তিনি তিন নম্বর অবস্থানে নেমে তাঁর একমাত্র ইনিংসের প্রথম বলেই বিদেয় নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে অভিষেকধারী হ্যারি হাওয়েলের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। অনেক বছর বাদে তিনি জানান যে, পূর্বরাত্রে জটিল ধরনের শিশু জন্মের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। তাসত্ত্বেও, ইনিংস ও ৯১ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশ ছিল।

এরপূর্বে ১৯১৪-১৫ মৌসুমে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে নিজ দেশে ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজ খেলার জন্যে মনোনীত হয়েছিলেন। তবে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে ঐ সিরিজটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়। তবে, যুদ্ধ শেষ হলে টেস্ট দলে ঠাঁই পেতে মনোনিবেশ ঘটিয়েছিলেন।

ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলেও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। তবে, ফুটবলার হিসেবে তিনি কম ব্যর্থতার পরিচয় দেন। ১৯১২ থেকে ১৯১৫ সময়কালে ৫৭ খেলায় অংশ নিয়ে ১৪৬ গোল করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ও মেলবোর্নের পক্ষে খেলেছেন। ১৯১৩ সালে ৫৩ গোল করে লীগের সর্বোচ্চ গোলকিক করেছিলেন। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে আটকানোর কারণে খেলা থেকে বের করে দেয়া হলে তিনি খেলাটি থেকে বিদেয় নেন। তবে, তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছিলেন যে তিনি আঘাত করেননি।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন। ইয়ান জনসন সম্পর্কে তাঁর জামাতা। ২৩ জানুয়ারি, ১৯৪৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মিডল পার্ক এলাকায় ৫৪ বছর ১৭৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট