|

স্যামি জোন্স

১ আগস্ট, ১৮৬১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৮৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৯০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৮৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে খেলেন। ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে খেলতে থাকেন। কুইন্সল্যান্ডের অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। এরপর, ১৯০৪ সালে নিউজিল্যান্ডে চলে যান। সেখানে ১৯০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত অকল্যান্ডের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছেন।

১৮৮২ থেকে ১৮৮৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮১-৮২ মৌসুমে নিজ দেশে আলফ্রেড শ’য়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। জর্জ কোল্টহার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, কোন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৭ ও ১৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৫ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৮৮৬ সালে টাপ স্কটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ওভালে জেন্টলম্যানের বিপক্ষে ১৫১ রান তুলেছিলেন। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সেরা ইনিংসে পরিণত হয়। ঐ সফরের ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে ৮৭ রানের ইনিংস খেলে বিদেয় নিয়েছিলেন।

১২ আগস্ট, ১৮৮৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে উভয় ইনিংসে ২ রান করে উভয় ক্ষেত্রে জর্জ লোহমানের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২১৭ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন দলের মুখোমুখি হন। ২১ মার্চ, ১৮৮৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। রাবার নিষ্পত্তির খেলায় তিনি মাত্র ০ ও ১৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে ববি পিলের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৯৮ রানে পরাভূত হলে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৮৮৭-৮৮ মৌসুমে নিজ দেশে আলফ্রেড শ’ ও আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১২৬ রানে পরাভূত হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলোয় কোন শতকের সন্ধান পাননি। তবে, ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৮৭ রান তুলে পরবর্তী শতকেও অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ব্যাপক প্রভাব ফেলেন। দলের সাথে ১৮৮২, ১৮৮৬, ১৮৮৮ ও ১৮৯০ – এ চারবার ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৭ বছর বয়সে তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানতে হয়। তাসত্ত্বেও আরও দুই দশক প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। শেষের বছরগুলো নিউজিল্যান্ডে খেলেছিলেন।

ব্যাট হাতে টিকে থাকার কৌশল রপ্ত করেন ও শক্ত প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরী করতেন। অপরদিকে বোলিংয়ে তেমন ধার না থাকলেও ব্যাটসম্যানদের যথেষ্ট বিড়ম্বনায় পড়তে হতো ও সমীহের পাত্রে পরিণত হতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। তবে, উঁচু পর্যায়ে এ ধারার পুণরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি।

ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবি খেলায় দক্ষ ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে ১৫বার রাগবি খেলেছেন। অবসর সময়ে মৎস্যশিকার ও শিকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। রসাত্মকভাবে – ইংরেজ ভদ্রতা ও অস্ট্রেলীয় ঝগড়াটের মিশেলে তিনি গড়ে উঠেছিলেন। ১৪ জুলাই, ১৯৫১ তারিখে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে ৮৯ বছর ৩৪৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট