২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বেডফোর্ড পার্ক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পেশীবহুল হৃষ্টপুষ্ট শারীরিক গড়নের অধিকারী। প্রশস্ত কাঁধে অপূর্ব ভঙ্গীমায় স্বল্প দূরত্ব নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। তাঁর বোলিংয়ের ধরন অনেকাংশেই জেফ থমসনের অনুরূপ ছিল। ‘স্লুন’ ডাকনামে ভূষিত শন টেট ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৯৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ২০০২-০৩ মৌসুম থেকে ২০০৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া; ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম, গ্ল্যামারগন ও এসেক্স; জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মিড ওয়েস্ট রাইনোজ এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটন দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স, হোবার্ট হারিকেন্স, মেলবোর্ন রেনেগাডেস, পেশাওয়ার জালমি, রাজস্থান রয়্যালস ও চিটাগং কিংসের পক্ষে খেলেছেন।

১৯ বছর বয়সে ২০০২-০৩ মৌসুমে নিজ রাজ্য দল সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্রথম খেলেন। স্বল্প রান খরচে উইকেট লাভে দক্ষতার পরিচয় দেন। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। পরবর্তী মৌসুমেও চমৎকার ছন্দ ধরে রাখেন। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলে খেলার পাশাপাশি জাতীয় দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়। ২০০৪ সালে ব্র্যাডম্যান বর্ষসেরা তরুণ ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। লঙ্কা সফরে প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় হিসেবে তাঁকে দলে রাখা হলেও অনুশীলনীতে অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের নজর কাড়েন। পাশাপাশি, দল নির্বাচকমণ্ডলীর কাছেও সম্ভাবনাময় পেসার হিসেবে চিত্রিত হন। পুরা কাপে ২০.১৬ গড়ে ৬৫ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েন। এরফলে, অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে তাঁকে দলে রাখা হয়।

২০০৫ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সব মিলিয়ে তিনটিমাত্র টেস্ট, ৩৫টি ওডিআই ও ২১টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৫ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড গমন করেন। জেসন গিলেস্পিকে পাশ কাটিয়ে দুই টেস্ট খেলেন। তবে, ক্রমাগত পেস আক্রমণের কারণে আঘাতের কবলে পড়েন ও তাঁকে কাঁধে অস্ত্রোপচার করতে হয়। ২৫ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৯৭ ও ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩* ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অ্যান্ড্রু স্ট্রসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

দলে ফিরে এসে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেন। অস্ট্রেলিয়ার শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ২০.৩০ গড়ে ২৩ উইকেট নিয়ে সর্বাধিক উইকেট সংগ্রহকারীদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে চলে আসেন। এ পর্যায়ে গ্লেন ম্যাকগ্রা’র উপযুক্ত উত্তরসূরী হিসেবে বিবেচিত হতে থাকেন।

২০০৭-০৮ মৌসুমে নিজ দেশে অনিল কুম্বলে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৬ জানুয়ারি, ২০০৮ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৫৯ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইরফান পাঠানের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭২ রানে জয় পেলেও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০০৯ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে সড়ে আসেন। পেসের সাথে আপোষহীনতায় নিজেকে জড়াননি। তবে, পাঁচদিনের খেলার উপযোগী শারীরিক সক্ষমতাও তাঁর মাঝে ছিল না।

২০১৭ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ তারিখে ১২ মাসের জন্যে পাকিস্তান দলের ফাস্ট বোলিং কোচ হিসেবে মনোনীত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট