ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার মাউন্ট ললি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘ম্যাক’ ডাকনামে ভূষিত স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল ১.৮৩ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০০৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার ও সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডেভন ও সিডনি সিক্সার্সের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৯৪ সালে ২৩ বছর বয়সে শেফিল্ড শীল্ডে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সদস্যরূপে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। উচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে এটিই তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ ছিল। তবে, ২৫ বছর বয়সের মধ্যেই শেন ওয়ার্ন অস্ট্রেলিয়া দলের শীর্ষ বোলারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ক্রমাগত সফলতার কারণে নিজেকে কখনো দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টির বাইরে রাখেননি। ১৯৯৭ সালে সমারসেটের পক্ষে সংক্ষিপ্তকাল খেলার পর ঐ বছরের শেষদিকে নিউ সাউথ ওয়েলসে চলে যান। নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। ২০০২ সালে নটিংহ্যামশায়ারের ক্যাপ লাভ করেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ঐ দলের ৫৭১ নম্বর খেলোয়াড় তিনি।

১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৪৪ টেস্ট ও তিনটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৩০ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/১১২ ও ২/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালেক স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। বক্সিং ডে পুরোপুরি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায় ও ৬০০০০ দর্শকের আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খেলা শুরু হবার পূর্বক্ষণে বৃষ্টি আঘাত হানে। ঘটনাবহুল খেলার চতুর্থ দিন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের সন্ধান পান। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৩ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৬১ ও ৩/৮১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডিন হ্যাডলি’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ১২ রানে পরাজয়বরণ করলেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৩ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৮৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ব্রায়ান লারা’র অসাধারণ দ্বি-শতকের (২১৩) কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনতে সমর্থ হয়।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালেক স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৯৯৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি ৫/৫৭ ও ৭/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ড্যারেন গফের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। তাঁর অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯৮ রানে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৩ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ১৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১০ ও ২/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ইনিংস ও ১২৬ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, প্রথম ইনিংসে বল হাতে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ৭/১০৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ৮৮ রান খরচায় কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। সফরকারীরা মাইকেল স্লেটারের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে ৬ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০০৩ সালে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৯ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি  বল হাতে নিয়ে ২/৯৮ ও ২/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কোন ইনিংসেই তাঁকে ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামতে হয়নি। রিকি পন্টিংয়ের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১১৮ রানে জয়লাভ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

২০০৩-০৪ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৮ মার্চ, ২০০৪ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে মুত্তিয়া মুরালিধরনের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬৯ ও ৪/৭৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ম্যাথু হেইডেনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৯৭ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ ইউসুফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ২০০৫ তারিখে সিডনিতে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে অংশ নেন। ঐ খেলায় দারুণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ৫/৮৭ ও ৩/৮৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। তাঁর অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে ঐ খেলায় সফরকারীরা নয় উইকেটে পরাভূত হয় ও ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে পরাজয়বরণ করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৫-০৬ মৌসুমে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ১৬ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩/৬৮ ও ৪/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি। জেসন গিলেস্পি’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৮০ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০০৮ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৩০ মে, ২০০৮ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১/১০৭ ও ০/৭৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি। শিবনারায়ণ চন্দরপলের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে ২০৮ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, বারোবার পাঁচ-উইকেট ও দুইবার খেলায় দশ উইকেটের সন্ধান পান। উপর্যুপরী আঘাতের কবলে পড়েন। অতঃপর, ২০০৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট শেষে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। বিভিন্ন কারণে শেন ওয়ার্নের তুলনায় কম টেস্ট খেলেছেন। তবে, প্রাপ্ত উইকেট লাভে তাঁর বোলিং গড় বেশ কম ছিল।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্য কর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন।

১৪ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে সিডনির ব্রিঞ্জলিতে অবস্থিত স্বীয় বাসভবনের কাছাকাছি জায়গা থেকে অপহরণের শিকার হন। মারিয়া ও’মিগার নাম্নী সঙ্গীনিকে গাড়ী থেকে নামিয়ে তিনজন মুখোশ পরিহিত ব্যক্তি তাঁকে গাড়ীর পিছনে রাখে ও পরবর্তীতে বেলমোরে নিয়ে যাওয়া হয়। $১৫০,০০০ মার্কিন ডলার দাবী পূরণে ব্যর্থ হলে তাঁর অঙ্গুলী কর্তনের হুমকি দেয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শেষে সাতজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।

সম্পৃক্ত পোস্ট