|

জেমস ফকনার

২৯ এপ্রিল, ১৯৯০ তারিখে তাসমানিয়ার লঞ্চেস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মাঝারিসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ২০১০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১.৮৬ মিটার উচ্চতার অধিকারী। তাসমানিয়ার অল-রাউন্ডার পিটার ফকনারের সন্তান ছিলেন। তাসমানিয়ার অনূর্ধ্ব-১৭ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৮ বছর পূর্তির পূর্বেই মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০০৮ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। তাসমানিয়া দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেন। দূর্দান্ত খেলে ২০০৭-০৮ মৌসুমে রাজ্য দলের রুকি চুক্তির আওতায় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান।

২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তাসমানিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, গুজরাত লায়ন্স, হোবার্ট হারিকেন্স, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, লাহোর কালান্দার্স, লঞ্চেস্টন, মেলবোর্ন স্টার্স, পুনে ওয়ারিয়র্স, কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স ও রাজস্থান রয়্যালসের পক্ষে খেলেছেন। ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে হোবার্টে অনুষ্ঠিত কুইন্সল্যান্ড বনাম তাসমানিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ৬৯টি ওডিআই ও ২৪টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

২০১৩ সালে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ আগস্ট, ২০১৩ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ খেলায় ৯৮ রান খরচায় ছয় উইকেট দখল করেছিলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৫১ ও ২/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২৩ ও ২২ রান সংগ্রহ করেন। তবে, শেন ওয়াটসনের দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

২০১৩-১৪ মৌসুমে ওডিআইয়ে বেশকিছু স্মরণীয় সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। ভারতের বিপক্ষে মাত্র ২৯ বল থেকে ৬৪ রান তুলে অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন। ইশান্ত শর্মা’র এক ওভার থেকে ৩০ রান আদায় করে নিয়েছিলেন। মোহালিতে অনুষ্ঠিত ঐ ইনিংসের কল্যাণে অস্ট্রেলিয়া দল অপ্রত্যাশিতভাবে জয়লাভে সমর্থ হয়।

এর দুই সপ্তাহ পর নিজস্ব প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন। ৩৮৪ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে ৭৩ বল থেকে ১১৬ রান তুলেন। এ পর্যায়ে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তৎকালীন দ্রুত শতক হাঁকানোর রেকর্ড গড়েছিলেন। তাসত্ত্বেও ব্যাঙ্গালোরে তাঁর দল পরাজিত হয়েছিল। গাব্বায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওভারে বীরোচিত ভূমিকা রাখেন। টিম ব্রেসনানের বলে উপর্যুপরী তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিন বল বাকী থাকতেই দলের বিজয় নিশ্চিত করেন।

২০১৭ সালে তাসমানিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ শেফিল্ড শীল্ডের খেলায় অংশ নেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ৩০.৯১ গড়ে রান ও ২৪.৭৮ গড়ে বোলিং করেছিলেন।

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ তারিখে আর্থিক মতবিরোধের জের ধরে পিএসএল থেকে চলে আসেন। তবে, পিসিবি তাঁর অভিযোগ অস্বীকার করে। এর বিপরীতে তাঁর আচরণ মার্জিত নয় ও ভবিষ্যতে পিএসএলের খসড়া তালিকায় তাঁকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

সম্পৃক্ত পোস্ট