| |

কিম বার্নেট

১৭ জুলাই, ১৯৬০ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের স্টোক-অন-ট্রেন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী তিনি। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী কিম বার্নেট স্টাফোর্ডশায়ারভিত্তিক লিক হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। যুবক অবস্থায় দারুণ খেলতেন। পরবর্তীতে, বড়দের দলে পেশাদারী পর্যায়ে অংশ নেন। ১৫ বছর বয়সে নর্দাম্পটনশায়ার ও ওয়ারউইকশায়ার দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেছিলেন। এছাড়াও, স্টাফোর্ডশায়ারে লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। প্রায়শঃই ব্যাট হাতে সবশেষে মাঠে নামতেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে ইংলিশ স্কুলসের সদস্যরূপে ভারত এবং ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে ইংল্যান্ড ইয়ং ক্রিকেটার্সের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন।

১৯৭৯ থেকে ২০০২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার ও গ্লুচেস্টারশায়ার এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বোল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, স্টাফোর্ডশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৭৯ সালে ডার্বিশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। পাঁচ নম্বর অবস্থানে মাঠে নামেন। ১৯৮২ সালে কাউন্টি ক্যাপ লাভ করেন। পরের মৌসুমে ২২ বছর বয়সে ক্লাবের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। ভবিষ্যৎ ইংরেজ অধিনায়ক হবার লক্ষ্যে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে শ্রীলঙ্কা গমনার্থে ইংল্যান্ড ‘বি’ দলের সহঃঅধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। কিন্তু গুরুতর অসুস্থ হন ও দুই স্টোন ওজন হারান। ফলশ্রুতিতে, সফরের শুরুতেই দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন।

নিজস্ব ধাঁচে ক্রিজে দাঁড়াতেন। লেগ-স্ট্যাম্পের কয়েক ইঞ্চি বাইরে ব্যাট রাখতেন। বোলারদের এক হাত নিতেন ও ঘন গোঁফের অধিকারী ছিলেন। কাউন্টি ক্রিকেটে অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত হন। সচরাচর ইনিংস উদ্বোধনে নামলেও ইংল্যান্ডের পক্ষে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। স্বল্পসংখ্যক ব্যাটসম্যানদের অন্যতম হিসেবে সিমবান্ধব ডার্বি পিচে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। পঞ্চাশের অধিক শতক সহযোগে ছাব্বিশ হাজারের অধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৯০ সালে সানডে লীগের শিরোপা বিজয়ে ডার্বিশায়ার দলের নেতৃত্ব দেন। এরপর, ১৯৯৩ সালে বেনসন এন্ড হেজেস কাপের শিরোপা জয় করে তাঁর দল। অধিনায়কত্ব থেকে সড়ে আসার পরও ক্লাবের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, ডিন জোন্সক্রিস অ্যাডামসের সাথে তাঁর সু-সম্পর্ক ছিল না।

১৯৮৮ থেকে ১৯৮৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে নিজ দেশে রঞ্জন মাদুগালে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৫ আগস্ট, ১৯৮৮ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ফিল নিউপোর্ট, ডেভিড লরেন্স ও জ্যাক রাসেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৬৬ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অপর অভিষেকধারী ফিল নিউপোর্টের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পায়।

অল্প কিছুদিন পর ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে ওভালে একই দলের বিপক্ষে একমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৮৯ সালে নিজ দেশে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৬ জুলাই, ১৯৮৯ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২০১৬ সালে ক্রিকেট প্রধান হিসেবে ডার্বিশায়ার দলে যুক্ত হন। তবে, দলটি দ্বিতীয় বিভাগে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করায় ২ জুলাই, ২০১৮ তারিখে তাঁকে ক্রিকেট উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট