২০ মে, ১৯৫৬ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার নর্থ অ্যাডিলেড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৭৯ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৮ টেস্ট ও আটটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক ব্রিয়ার্লি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
একই সফরের ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩ ও ১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়ক গ্রাহাম ইয়ালপের অসাধারণ ব্যাটিং সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৫-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
ছন্দহীন ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে একই মৌসুমে বাদ পড়েন। পাঁচ বছর পর ১৯৮৪ সালে পুণরায় দলে ফিরে আসতে সক্ষম হন। পূর্ববর্তী মৌসুমে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে দূর্দান্ত খেলেছিলেন। ফিরে এসেই তিন ইনিংসের মধ্যে শতক হাঁকাতে থাকেন। দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালান। তবে, পূর্বেকার দূর্বলতা পুণরায় ফিরে আসে। বাউন্সার যথাযথ মোকাবেলা করতে পারতেন না। হুক কিংবা পুল করার চেষ্টাকালে বিদেয় নিতেন।
১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৭০ ও ১১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৮৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজে এ ধরনের দূর্বলতাগুলো ব্যাপকভাবে ধরা পড়ে। প্রতিপক্ষ তাঁর দূর্বলতা চিহ্নিত করে ও বিরাটভাবে সফল হয়। নিজ দেশে ঐ বছরটি তাঁর শেষ বছর ছিল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলার পর দল থেকে বাদ পড়েন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৮ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে ০ ও ১২ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে রিচার্ড হ্যাডলি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। রিচার্ড হ্যাডলি’র অনবদ্য অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৪১ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টের তুলনায় ওডিআইয়ে আরও কম খেলার সুযোগ পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা চলমান রাখেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুমের বিদায়ী সময়েও শীর্ষ রান সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে হাতে বল থামানোর কারণে বিদেয় নিয়েছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে সড়ে আসার পর আইন পেশায় মনোনিবেশ ঘটান।
খেলোয়াড়ী জীবন শেষে প্রশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৯০-এর দশক থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া দলের নির্বাচকের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন। পাঁচ বছর মেয়াদে দল নির্বাচকমণ্ডলীর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পর ১৭ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে খণ্ডকালীন চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার কেড়ে নেয়া হয়। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। জেআর হিলডিচ নামীয় সন্তানের জনক ও আরবি সিম্পসন সম্পর্কে তাঁর শ্বশুর।
