|

আব্দুর রউফ

৯ ডিসেম্বর, ১৯৭৮ তারিখে পাঞ্জাবের রেনালা খুর্দ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পাঞ্জাবের প্রচলিত ফাস্ট বোলারদের ন্যায় দীর্ঘদেহী ও মজবুত গড়নের অধিকারী। জাতীয় দলে খেলার জন্যে রশীদ লতিফের কাছ থেকে অনুমতিপ্রাপ্ত হন। ২০০২-০৩ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজে অংশ নেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১৫-১৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পোর্ট কাসিম অথরিটি ও পাকিস্তান সুই গ্যাস কর্পোরেশনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লাহোর ডিভিশন ও মুলতান টাইগার্সের পক্ষে খেলেছেন।

স্বভাবসূলভ ভঙ্গীমায় বলে পর্যাপ্ত পেস আনয়ণে সক্ষম ছিলেন। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বিপরীতে বলকে বেশ বাঁক খাওয়াতেন। পাশাপাশি, বাউন্স সহযোগে বোলিং কর্মে অগ্রসর হবার মাধ্যমে সফলতা লাভ করতেন। ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে পাকিস্তান ‘এ’ দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। তবে, অন্যান্যদের ন্যায় তিনিও এ সিরিজে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। খুব কমই সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।

২০০৮ থেকে ২০০৯ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট, চারটিমাত্র ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলা উপহার দেয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ ২ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ তারিখে শেখুপুরায় অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ওডিআইয়ে তাঁকে প্রথমবারের মতো খেলানো হয়। নিজস্ব তৃতীয় খেলায় বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৯ সালে ইউনুস খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমনের সুযোগ পান। ৪ জুলাই, ২০০৯ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। মোহাম্মদ আমিরসাঈদ আজমলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/৫৯ ও ১/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ৩১ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, রঙ্গনা হেরাথের অসামান্য অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে তাঁর দল ৫০ রানে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৯-১০ মৌসুমে মোহাম্মদ ইউসুফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে ৩ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংস ডগ বলিঙ্গারের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ১/৮৬ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। শেন ওয়াটসনের দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৭০ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

সম্পৃক্ত পোস্ট