৬ জানুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে নটিংহামে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। ২০১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী তিনি। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে প্রথম খেলেন। ২০০৮ সালে উইজডেন বর্ষসেরা বিদ্যালয় ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। ২০০৯ সালে ক্রিকেট রাইটার্স ক্লাব বর্ষসেরা তরুণ ক্রিকেটার ও প্রফেসনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন বর্ষসেরা তরুণ ক্রিকেটারের পুরস্কার পান। শ্রপশায়ার ও ওরচেস্টারশায়ার দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার ও নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড লায়ন্সের পক্ষে খেলেছেন। ২০০৮ থেকে ২০১৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৮ বছর বয়সে ২৩ এপ্রিল, ২০০৮ তারিখে ওরচেস্টারের অনুষ্ঠিত ওরচেস্টারশায়ার বনাম লিচেস্টারশায়ারের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। লিচেস্টারশায়ারের সদস্যরূপে পরের বছর চারদিনের ও একদিনের ক্রিকেটে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান।

লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে ৫৩টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৪৯.১৮ গড়ে ৩৬৮৯ রান সংগ্রহ করেছেন। তবে, প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলা চলমান রাখতে ২০১১ মৌসুম শেষে নটিংহ্যামশায়ারের চলে যান। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার দলের ৬২১তম খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হন। প্রথম-শ্রেণীর অভিষেক খেলার প্রথম বলে শূন্য রানে বিদেয় নেয়ার পর পরবর্তী খেলায় লাফবোরা এমসিসিইউ’র বিপক্ষে অপরাজিত শতক হাঁকান।

২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্ট ও ২৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২৫ আগস্ট, ২০১১ তারিখে ডাবলিনে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

২০১২ সালে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২ আগস্ট, ২০১২ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৩৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, কেভিন পিটারসনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

২০১৫-১৬ মৌসুমে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২২ জানুয়ারি, ২০১৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ২৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। কাগিসো রাবাদা’র অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৮০ রানে জয়লাভ করলেও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আট বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে স্বীয় উচ্চতাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এগিয়েছেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ কিশোর অবস্থার প্রতিশ্রুতিশীলতা পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেননি। শারীরিক অবস্থার কারণে তাঁকে অবসর গ্রহণ করতে হয়েছিল।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২০১৭ সালে নর্দান্টসের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। এরপর, প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৩ জুলাই, ২০১৮ তারিখে ইংল্যান্ড দলের পূর্ণাঙ্গকালীন দল নির্বাচক হিসেবে মনোনীত হন।

২০০৯ সালে এনবিসি ডেনিস কম্পটন পুরস্কারে ভূষিত হন। একই সালে ক্রিকেট রাইটার্স ক্লাব কর্তৃক বর্ষসেরা তরুণ ক্রিকেটারের পুরস্কার লাভ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট